কুড়িগ্রামে ১২ ঘন্টায় ২০৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এতে বাঁধের রাস্তা, উঁচু সড়কে পলিথিনের তাবু কিংবা অস্থায়ী চালা বানিয়ে যেসব বানভাসী আশ্রয় নিয়েছিলেন তারা পড়েছেন মহাদুর্ভোগে।
ভারি বৃষ্টিপাতের সাথে উজানের ঢলে আবারো কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপদসীমার উপরে থাকা অবস্থায় আবারো পানি বৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন জেলার আড়াই শতাধিক চরের প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ। প্লাবিত হয়ে পড়ছে নতুন নতুন এলাকা। এ অবস্থায় টানা বাইশ দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় থাকা এসব মানুষের দুর্ভোগ চরম সীমায় পৌঁছেছে।
এদিকে জেলার রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাটে তিস্তার একটি স্পারের ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করেছে। বালির বস্তা ফেলে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘসময় ধরে বন্যা ও বৃষ্টিতে জেলার বাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। সেজন্য সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চেরাগির চরের নিজাম উদ্দিন, এই চরের পার্শ্ববর্তী কোন উঁচু জায়গা নেই। এ জন্য নৌকার মধ্যে ২৫ দিন ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছি। রান্না করার উপায় নেই, ঘরে শুকনো খাবার নেই। এই অবস্থায় আবারো পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। খুব বিপদে আছে। সরকারী বা বেসরকারী কোন ত্রাণ সহায়তা এখনও পাননি বলেও জানান তারা।
চিলমারীর রমনা ঘাট যাওয়ার রাস্তার উপর আশ্রয় নেয়া আশরাফ মিয়া জানান, এখানে এসেছিলেন বন্যা থেকে রক্ষা পেতে। কিন্তু এখন সেই রাস্তাটাও পানির নিচে চলে গেছে। কোনো রকমে জবুথবু হয়ে সময় পার করছেন।
রোববার সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ৬ ঘন্টার ব্যবধানে ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানে এবং স্থানীয়ভাবে ভারী বৃদ্ধিপাত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ার আশংকার কথা জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানান, জেলায় এ পর্যন্ত ১৩২ টি আশ্রয় কেন্দ্রে কমবেশি বন্যা কবলিত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। আরো ৪৩৮টি আশ্রয় কেন্দ্র আছে। নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপরে থাকা অবস্থায় আবারো বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে চরাঞ্চলের মানুষদের এসব আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হবে। সরকারীভাবে খাদ্য সহায়তা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। আমাদের কাছে আরো ২৩০ মেট্রিক টন চাল ও ৪ লাখ টাকা মজুদ আছে। বন্যা কবলিতদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।