স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সরকারি চাকরি করেন। একজন সরকারি একটি ব্যাংকের ম্যানেজার আরেকজন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়লের শিক্ষিকা। এক ছেলে নিয়ে তিনজনের পরিবার দিনাজপুর শহরের লালবাগ এলাকার আজাদ নয়ন ও নাজমা ইয়াসমিন মুক্তার। ছেলে পড়াশোনার জন্য থাকে বাইরে। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকরির পাশাপাশি অবসর সময় পার করেন এই ছাদ বাগান করে।
দীর্ঘ আঠারো বছরের ছাদ বাগানে ১৩২ প্রকারের ফুল, ফলজ ও ওষুধি গাছ আছে। এই গাছগুলো ছাদে আসার ভিন্ন ভিন্ন কারণও আছে। বিশেষ কোনো দিনে যেমন- স্বামীর জন্ম দিনে স্ত্রী গাছ উপহার দেন। আবার স্ত্রীর জন্ম দিনে স্বামীও গাছ উপহার দেন। শুধু তাই নয়, সংসার জীবনের প্রতিটি বিবাহবার্ষিকীতে স্থানীয় নার্সারিতে গিয়ে দুজন দুজনকে গাছ উপহার দিয়ে থাকেন। এভাবেই এখন ব্যাংক কর্মকর্তার আড়াই হাজার বর্গ ফুটের বাড়ির ছাদ বাগানটিতে গড়ে উঠেছে ১৩২ প্রকারের গাছের বিশাল একটি বাগান। মুক্ত এই ছাদ বাগানটিতে ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রজাপতিরাও।
গাছগুলোর যত্ন করেন নিজের সন্তানের মতো। প্রতিদিন স্বামী-স্ত্রী অফিস থেকে ফিরে আগে ছাদে গিয়ে গাছের খোঁজখবর নেন। বছরের প্রতিটি সময়ে নিজের ছাদ বাগানের গাছ থেকেই দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু ফল খেয়ে থাকেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাংক কর্মকর্তা আজাদ নয়ন অফিস থেকে ফিরে সোজা গেছেন ছাদ বাগানে। সেখানে কোন গাছের কি সমস্যা, কোনটাতে পানি দিতে হবে আর কোনটাতে নিরানী করতে হবে এগুলো নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে দৃষ্টিনন্দন এই ছাদ বাগানটির অনেক গাছেই ঝুলে আছে দেশি-বিদেশি হরেক রকমের পাকা, আধাপাকা কিংবা কাঁচা ফল।
গাছে ঝুলে আছে ড্রাগন, জাম্বুরা, কয়েক প্রকার কমলা, মালটা, বাতাবি লেবু, আঙ্গুর, কয়েক ধরনের পেয়ারা, আম, ডালিম, করমচা, তেতুল, মিষ্টি তেতুল, অড়বড়াই, পানি জাম, সাদা জাম, সফেদা, আমড়া, শরিফা মেওয়া, আতা ফলসহ অসংখ্য ফল। আছে নাইট কুইনসহ অনেক প্রকার ফুলের গাছও। বিদেশি গাছের মধ্যে রয়েছে অ্যাভাকোডা, রাম্বুতান, করোসল, বরোরা, জয়তুন, ভিয়েতনামের বারমাসি কাঁঠাল, আপেল, থাই বারমাসি বাদামি লেবু, থাই কদবেল, কালো আঙ্গুর, সৌদি আরবের খেঁজুর গাছ, আলু বখরাসহ বিভিন্ন প্রজাতি।
গাছের যেকোনো সমস্যায় তিনি কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতার কথাও বলেন তিনি।
ব্যাংক কর্মকর্তা আজাদ নয়ন বলেন, ‘আমার ছাদ বাগান করার বয়স আঠারো বছরের বেশি। আমার ছাদ বাগানে ১৩২ প্রজাতির গাছ আছে। এসব গাছ তেলের ড্রাম কিংবা বড় বড় টপে করে রাখা হয়েছে। আমার জীবনের আমি যতবার বিদেশে গিয়েছি সেখান থেকে গাছ নিয়ে এসেছি। ছাদের কোনো গাছে কীটনাশক ব্যবহার করি না। প্রতিটি গাছে জৈব সার ব্যবহার করি। আমাদের চাকরির পাশাপাশি অবসর সময়টা কাটে এই ছাদ বাগানে। ছাদেই শুধু নয়, আমার স্ত্রী ঘরের বারান্দায় প্রায় শতাধিক প্রজাতির ছোট ছোট টপে গাছ লাগিয়েছেন। আমার দেখাদেখি এখানের অনেক বাড়িতেই এখন ছাদ বাগান হয়েছে। আমার কাছে এখন অনেকেই ছাদ বাগানের বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন।’
ছাদ বাগানের জনপ্রিয়তা দিনাজপুরে অনেক বেড়েছে। জেলা প্রশাসকও ছাদ বাগানের বিষয়ে অনেক আগ্রহী। নিজেও অফিসের বিভিন্ন ছাদে গাছ লাগিয়েছেন।
এ বিষয়ে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম বলেন, ‘ছাদ বাগান বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যারা ছাদ বাগান করতে আগ্রহী আমরা তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতাও করছি। জেলার প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ছাদ বাগান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমরাও পুরো জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের যেখানে গাছ বা বাগান করার মত জায়গা আছে সেগুলোতে বাগান করছি।’