‘মারা গেলে শুধু খবরের শিরোনাম বদলে যেতো’

সম্প্রতি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন অভিনেত্রী শাহানাজ খুশী। সেই স্মৃতির রেশ কাটাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে তাকে। সোমবার এক ফেইসবুক পোস্টে এ কথা জানালেন।

‘ভবের হাট’ অভিনেত্রী বলেন, মারা গেলেও খুব বেশি কিছু হতো না। শুধু খবরের শিরোনাম বদলে লেখা থাকতো, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন প্রিয় অভিনয়শিল্পী শাহানাজ খুশী’।

করোনার কারণে চার মাস শুটিংয়ের বাইরে ছিলেন খুশী। কামব্যাকের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার সড়ক দুর্ঘটনার মুখে পড়েন তিনি।

দেশ রূপান্তরকে জানান, বৃহস্পতিবার ঈদের নাটক ‘নসু ভিলেন’-এর দৃশ্যায়নে অংশ নেন। শুক্রবার একই নাটকের দৃশ্যায়নের জন্য পুবাইল যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা ঘটে। মাজুখান বাজারের কাছে এই ঘটনা। তখন গাড়িতে একাই ছিলেন খুশী।

ওই সময় তার গাড়িকে পেছনে ঠেলে নিয়ে থেমে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে চেপে ধরে কার্গোবাহী ট্রাক। সেটি চালাচ্ছিল হেলপার, যার আনুমানিক বয়স ১৬-১৭ বছর।

সোমবার ফেইসবুকে তিনি লেখেন, “আমি ভালো আছি, শারিরীকভাবে সুস্থ আছি। এ কথাটা বলতে আমার সময় লাগলো, কারণ আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। গাড়িটা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেলেও, সেই গাড়ির মধ্যে আমি এবং ড্রাইভার দুজনেই বেঁচে আছি কীভাবে! এটা মনে হলেই অসুস্থ হয়ে পড়ছি!”

আরও বলেন, “দুইদিন আমার ফোন বন্ধ ছিল। আমি কাল ফোন ওপেন করে আপনাদের ভালোবাসা দেখে অঝোরে কেঁদেছি! আমি বুঝতে পারছি সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপা, আর আপনাদের এই অকৃত্রিম অপার ভালোবাসার জোর, এই দুই মিলে আমাকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে এনেছে। আমার কৃতজ্ঞতা সৃষ্টিকর্তার কাছে, আমার কৃতজ্ঞতা আপনাদের কাছে। আমার বৃদ্ধা মা, বোন-ভাই সবাই গাড়ির ছবি দেখে, আমার কন্ঠস্বর না শোনা পর্যন্ত পাগলের মতো কান্নাকাটি করেছে, এখনো করছে।”

প্রার্থনা ও খবর রাখার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শাহানাজ খুশী। বলেন, “আমি, আমার পরিবার জ্ঞানতঃ কোন অন্যায়-লোভবশত কোন খারাপ কাজ কখনো করি নাই। আপনারা দোয়া করবেন, যেন সেটা কখনো না করি। দেশের ক্ষতি না করি। আপনাদের এ ভালোবাসার মর্যাদা রাখতে পারি।”

শনিবার দুর্ঘটনার খবরটি প্রথমবার জানান খুশী। ওই সময় দেশের পরিবহনখাত নিয়ে সমালোচনা করেন। সোমবারও একই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সবশেষে লেখেন, “মারা গেলেও খুব বেশি কিছু হতো না। শুধু নিউজগুলোর হেডলাইন বদলে লেখা থাকতো, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন প্রিয় অভিনয়শিল্পী শাহানাজ খুশী।”