ভালোলাগার অনুশীলনে কায়েস

বৃষ্টিতে ভিজে গেছে শহর। এমন দিনে সব কাজ ঠিকঠাক মতো হয় না। এলোমেলো হয় রুটিন। ইমরুল কায়েসের চার মাস পর মাঠে অনুশীলনে ফেরার দিনটাও হয়ে থাকল তেমন। তবে তার সবচেয়ে বড় স্বস্তি, ব্যাট হাতে নেমে পড়া গেছে। মেশিনে হলেও ব্যাটিং অনুশীলন তো করা গেছে। যেটা করোনাভাইরাসের কারণে ঘরবন্দি জীবনে ঘরে বসে করা একদমই সম্ভব নয়।

ক্রিকেটারদের একাংশের একক অনুশীলনের জন্য মাঠে ফেরার প্রথম দিন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ফিরেছিলেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম, ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন ও মিডিয়াম পেসার শফিউল ইসলাম। মুশফিক ও শফিউলের গতকাল ছিল অফ। মিঠুনের সঙ্গে যোগ দিলেন ইমরুল।

একে অবশ্য ঠিক যোগ দেওয়া বলাও ঠিক নয়। যেহেতু অনুশীলনটা একা একার। একজন ট্রেনার, বিসিবির এক কর্মকর্তা, মিডিয়া বিভাগ থেকে কেউ, বোলিং মেশিনে সহায়ক হাত; এই তো স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে অনুশীলনের সময়কার সঙ্গীরা। জমজমাট কিছু নয়। এর মধ্যে বৃষ্টি এসে তো মাঠের কাজটা হাতিয়ে নিয়ে যায়।

বিসিবির অ্যাকাডেমি মাঠে ঘাসের বুকে রানিং জমে ওঠে। দৌড়ের মধ্যে উপভোগটা বেশ সাড়া ফেলে বুকে। সেই সুযোগটা গতকাল মিঠুন ও ইমরুলের মিস হয়েছে। রানিংয়ের সময়টা জিমে কাটানো ছাড়া উপায় নেই। ওখানে লোহা-লক্কড়ের সঙ্গে সময় কাটে। ঘাম ঝরে। সবচেয়ে মরিয়া যে কারণটার জন্য, যেজন্য করোনার এমন পরিস্থিতির মধ্যেও মাঠে ফেরা সেই ব্যাটিং অনুশীলনে নেমে ইমরুলের মনে রোমাঞ্চ জাগে। মনে হয়, নিজেকে ভিন্ন এক ধাপে নিয়ে যাওয়ার এই তো সময়।

‘প্রায় চার মাস পর ব্যাটিং করলাম। অনুভূতি একটু ভিন্নরকমের। ভালো লাগছে। বাসাতে যদিও আমরা ওয়ার্ক আউট করেছি... রানিং বা জিম করেছি, কিন্তু ব্যাটিং করার অভ্যাস ছিল না।’

ইনডোরে বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনার ঘণ্টাখানেক ব্যাটিং করেছেন। শরীরের জড়তা ভাঙতে সময় নেয়। তবু ভালোলাগার জয়। তার ওপর ইমরুলের আবার জাতীয় দলে ফেরার তাড়া। ফর্মে তিনি ছিলেন এই মহামারী আসার আগে। আবার যেদিন ব্যাট হাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবেন সেদিন যেন অনেকের চেয়ে সামনে থেকে শুরু করতে পারেন সেই পণ মনে।

‘প্রায় চার মাস পর ব্যাটিং করে তাই ভালো লাগছে। আশা করি এই সুযোগটা আমরা কাজে লাগাতে পারব। কারণ, এখন আমাদের গ্যাপ আছে আর এই সময়ে স্কিল বা ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে পারব।’ আর এই সময় কাজে লাগিয়ে কী করা যেতে পারে সেটাও প্রত্যয়ের সঙ্গে উচ্চারিত হয় ইমরুলের কণ্ঠে, ‘আমার মনে হয় এটা খুব ভালো সময় খেলোয়াড়দের জন্য। এই সময়টাকে আমরা যদি ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারি তাহলে স্কিল ও ফিটনেসের দিক দিয়ে আমরা আরও একধাপ এগিয়ে যেতে পারব।’