যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডের পাশাপাশি সোমবার আরও একটি করোনা ভ্যাকসিন নিরাপদ বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
এদিন মার্কিন ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও জার্মান জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়ো এন টেক জানায়, তাদের টিকা পরীক্ষায় রোগীর দেহে নিরাপদ বলে প্রমাণিত হয়েছে এবং প্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
এ ছাড়া করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে উচ্চমাত্রার টি-সেল প্রতিক্রিয়াও দেখিয়েছে এই টিকা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি জানায়, ফাইজার ও বায়ো এন টেকের টিকা ইতিবাচক ফল দেখানোর এই ঘোষণা আসার পর তাদের শেয়ারের দাম বেড়ে গেছে।
বায়ো এন টেকের শেয়ারের দাম বেড়েছে ১২ শতাংশ আর ফাইজারের শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
এর আগে ১ জুলাই ফাইজার দাবি করে যে, তাদের ভ্যাকসিন স্বাস্থ্যবান মানুষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, এমন ইতিবাচক ফল তারা পেয়েছে।
এরপরে টাইম অনলাইনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ফাইজারের সিইও অ্যালবার্ট বোরলা জানান, দুই মাস পরেই করোনা ভ্যাকসিন আনতে যাচ্ছে ফাইজার ও বায়ো এন টেক।
বোরলা আশা প্রকাশ করেন, আগামী অক্টোবর মাস নাগাদ তাদের ভ্যাকসিনটি যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের(এফডিএ) অনুমোদন পেয়ে যাবে।
সফল ভ্যাকসিন তৈরির ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী হওয়ায় এটির বাজারজাতের প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে ফাইজার।
ইতিবাচক ফল প্রকাশের পর থেকে ভ্যাকসিন ডোজ তৈরির বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ১০ কোটি করেছে ফাইজার।
বোরলা জানান, তারা এখন বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে ভ্যাকসিনের ডোজ বিক্রি নিয়ে বাণিজ্যিক আলোচনা করছেন। এফডিএর অনুমোদন পাওয়া আগেই উৎপাদনপ্রক্রিয়া শুরু করবে তার কোম্পানি।
জার্মানিতে ৬০ জন স্বাস্থ্যবান স্বেচ্ছাসেবীর ওপর পরীক্ষা করে ফাইজারের ভ্যাকসিনের ফল পাওয়া গেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে এ পরীক্ষা চালিয়েছিল কোম্পানিটি।
এসব স্বেচ্ছাসেবকদের দুই ডোজ ভ্যাকসিন দেয়া হয়। বর্তমানে ফাইজারের গবেষণার ফল পিয়ার রিভিউ জার্নালে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
ভ্যাকসিন বানানোর পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে ১০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে ফাইজার।
এদিকে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির আবিষ্কৃত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী সম্ভাব্য ভ্যাকসিন প্রাথমিক ধাপের ট্রায়ালে ‘সফল’ হয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসাশাস্ত্র-বিষয়ক বিখ্যাত সাময়িকী দ্য ল্যানসেট। এ ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলকভাবে যাদের শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছিল তাদের সবার মধ্যেই অ্যান্টিবডি সৃষ্টি হয়েছে।
১ হাজার ৭৭ জনের ওপর পরীক্ষামূলকভাবে এ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়, যাদের সবার শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি শ্বেত রক্তকণিকা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সক্ষমতা দেখিয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫০টির বেশি ভ্যাকসিন তৈরি ও পরীক্ষার কাজ চলছে। বর্তমানে ২৩টি ভ্যাকসিন মানবদেহে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
তবে নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরিতে অন্তত ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।