পোশাক ও শ্রমের নতুন বাজার খোলার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

করোনাভাইরাস মহামারীতে সৃষ্ট বিশ্ব পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক শিল্পের এবং শ্রমের নতুন বাজার খুঁজতে রাষ্ট্রদূতদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। গত সোমবার ইউরোপে বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও আইএলওর নির্দেশনা মেনে উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬৫ লাখ পিস পিপিই রপ্তানি করা হয়েছে। দেশের ওষুধ শিল্পের অভাবনীয় উন্নতির ফলে করোনা চিকিৎসায় বিভিন্ন ওষুধ উৎপাদন ও রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে রপ্তানি আয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান বাজার সংরক্ষণ করে আরও নতুন বাজার অনুসন্ধান করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন নতুন শ্রমবাজার খুঁজতে হবে।

আবদুল মোমেন রাষ্ট্রদূতদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে সরকার করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে সাময়িকভাবে যে চাপের সৃষ্টি হয়েছে তা মোকাবিলায় ১২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রায় ৫ কোটি মানুষের হাতে নগদ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।’ করোনা মোকাবিলায় সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ স্ব-স্ব দেশের সরকার ও প্রবাসীদের অবহিত করার জন্য রাষ্ট্রদূতদের প্রতি নির্দেশনা দেন তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সভায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বিজিএমইর সভাপতি ড. রুবানা হক এতে সংযুক্ত ছিলেন। এ ভার্চুয়াল সভায় যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স, সুইডেন, বেলজিয়াম, গ্রিস, স্পেন, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, জার্মান, সুইজারল্যান্ড এবং অস্ট্রিয়ায় নিয়োজিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরা অংশগ্রহণ করেন।

ড. রুবানা হক তৈরি পোশাক শিল্পের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে রাষ্ট্রদূতদের অবহিত করেন এবং তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রদূতরা সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে বিজিএমইর সভাপতিকে আশ্বস্ত করেন।