কাদার সড়কে ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছেন জয়পুরহাটের কালাইয়ের তেলিহার-ভাটাহার ও পাইকপাড়া এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। গ্রামগুলোর মাটির প্রায় চার কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটির কারণে স্থবির হয়ে আছে এখানকার জনজীবন। এমনকি সড়কের কাদা দেখে পাত্রপক্ষ ভেঙে দিচ্ছে বিয়ে, জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়ার আগে মারা যাচ্ছেন পথেই।
এই এলাকায় রয়েছে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক, আদর্শ গুচ্ছগ্রামসহ নানা সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও হাট-বাজার। ভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ট্রলির চালকরা সড়কের কাদার কারণে পরিবহন বন্ধ রেখে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এলাকার মোসলেম উদ্দীন আক্ষেপ করে বলেন, ‘এই এলাকার রাস্তায় একহাঁটু কাদা। আজ ফসল নিয়ে ঘরে আমরা অস্থির। ভ্যান, রিকশা কোনো কিছুই রাস্তায় বের হতে পারছে না। মেয়ের বিয়ে, তারিখ হয়ে গেছে, বিয়ের লোক এসে বলে এই রাস্তা এমন! আপনারা মানুষ নাকি গরু, তোমাগেরে মেয়েক বিয়ে করা যাবে না।’
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক গুলসি আরা বেগম বলেন, রাস্তার কাদার কারণে বাচ্চারা প্রতিষ্ঠানে আসে না।
এলাকাবাসী তহমিনা, ছানোয়ার হোসেন, আইয়ুব আলীসহ অনেকে বলেনÑ বর্ষার সময় কোনো লোক অসুস্থ হলে আমরা তাকে হাসপাতালে নিতে পারি না। হাসপাতালে পৌঁছার আগেই পথে অনেকে মারা যান। সরকারের কাছে আমাদের দাবিÑ এই রাস্তাটা অতি দ্রুত পাকা করে দেওয়া হোক।
উদয়পুর ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী কাদায় দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, তেলিহার-ভাটাহার রাস্তার আইডি ছিল না। কয়েক মাস আগে আইডি হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এফ এম খায়রুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, তেলিহার-ভাটাহারের পুরো রাস্তাটি আমাদের নয়। এটির কিছু অংশ গাইবান্ধা জেলার মধ্যে। আমাদের জেলার যতটুকু রাস্তা বাকি আছে দ্রুত ইস্টিমেট করতে বলা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।