মৌলভীবাজারে লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসির সংখ্যা সরকারি হিসেবে আট শতাধিক। যা জেলার মোট ফার্মেসির অর্ধেক। তবে অভিযোগ আছে, এই হিসাবের বাইরে লাইসেন্স ছাড়া দিনের পর দিন ওষুধের ব্যবসা করে যাচ্ছে আরও অন্তত ২০০ ফার্মেসি। এছাড়া আয়ুর্বেদিক এবং ইউনানি মিলে আরও ২০০-২৫০ ফার্মেসি রয়েছে জেলায়, যাদের বড় অংশের নেই ড্রাগ লাইসেন্স।
সরকারি হিসাবে জেলায় ফার্মেসির সংখ্যা ১ হাজার ৮৯৯টি। যেগুলোর অর্ধেকের বেশি লাইসেন্সের মেয়াদ নেই। এগুলোর মধ্যে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী করোনার এই মহামারীতে বাড়িয়ে দিয়েছেন জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম। বিক্রি হচ্ছে ভেজাল ওষুধও। তাছাড়া প্রেসক্রিপশনবিহীন অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি তো আছেই। জেলা ওষুধ তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ের উদাসীনতায় এমনটি হচ্ছে বলে জেলার সচেতন মহলের অভিযোগ।
গণমাধ্যমে কথা বললে পরবর্তী সময়ে লাইসেন্স পেতে সমস্যা হবে জানিয়ে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলছেন, জেলা ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ বাদল সিকদারের সহযোগিতায় লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসিগুলো দিনের পর দিন জেলাজুড়ে রমরমা অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এইসব লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসি থেকে জেলা ওষুধ প্রশাসন মাসে বড় অংকের মাসোহারা আদায় করছে। একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, জেলা ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক প্রতি মাসে জেলার সবকটি উপজেলায় পরিদর্শনে যান। উপজেলা পরিদর্শনের নামে যেখানে গিয়ে একটি ফার্মেসিতে বসে পুরো উপজেলার দায়িত্ব সারেন।
আবার শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে বিভিন্ন উপজেলায় চলছে রমরমা ফার্মেসি ব্যবসা। এসব ফার্মেসিতে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক, নিষিদ্ধ ওষুধ, ভারতীয়, নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের যৌন উত্তেজকসহ নানা প্রকার ওষুধ অবাধে বিক্রি করছে। অনেক ফার্মেসি ব্যবসায়ীর নেই কোনো ফার্মাসিস্ট প্রশিক্ষণ। ফলে রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন রোগীরা। লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসির কারণে প্রকৃত ফার্মেসি ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে মনে করছেন ফার্মেসি ব্যবসায়ীরা।
মৌলভীবাজার পৌর এলাকার আহমদিয়া ফার্মেসির পরিচালক সেলিম আহমদ জানান, লাইসেন্স ছাড়া অবৈধ ব্যবসায়ীরা নকল, ভেজাল এবং নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি করবে সেটাই স্বাভাবিক। এদের কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বদনাম হচ্ছে। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষ রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।
জেলা ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ বাদল সিকদার বলেন, লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসিগুলোকে ধারাবাহিক নোটিস দেওয়া হচ্ছে। তবে করোনাভাইরাসের কারণে আমরা কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখিয়েছি। মাসোহারা আদায়ের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, এ ধরনের কোনো সুযোগ নেই। তবে পাহাড়ি এলাকায় কিছু ফার্মেসি আছে যাদের লাইসেন্স নেই। এইসব ফার্মেসি খোলে সন্ধ্যার পর, তাই অভিযানে গিয়ে আমরা বন্ধ পাই।