কিউবায় ‘শকুনের’ নজর

সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবার অর্থনীতিতে ক্রমশ পরিবর্তন আসছে। এতদিন যা ছিল কল্পনাতীত, তাই ঘটছে দেশটিতে। সারা দেশে খোলা হয়েছে এমন দোকান, যেগুলোতে শুধু বিদেশি মুদ্রা দিয়েই পণ্য কেনা যায় যা দেশটি অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে তার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করা হচ্ছে। বিদেশি মুদ্রায় পণ্য কেনার দোকানটির সামনে মানুষ লাইন করে যখন দাঁড়াতে শুরু করল তখন সবে ভোর হয়েছে। সপ্তাহের শুরুতে দোকানটিতে বিদেশি মুদ্রায় খাদ্যসামগ্রী আর হাইজিন প্রোডাক্টস, অর্থাৎ জীবাণুমুক্ত করতে সহায়ক জিনিসগুলো বিক্রি হয়েছে। তবে এখন প্রায় সব ধরনের পণ্যই পাওয়া যাচ্ছে।

পণ্যসামগ্রীর চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছিল সারা দেশের সব দোকানে। তাক আর রেফ্রিজারেটর ভর্তি নানা ধরনের পণ্য নিয়ে নতুন এই দোকানগুলো খোলায় কিউবার নাগরিকরা তাই প্রতিদিন ছুটে আসছেন এসব দোকানে। তবে সবাই কিনতে পারছেন না। যাদের কাছে ইউরো, ডলার বা অন্য কোনো বিদেশি মুদ্রা আছে, শুধু তারাই ডেবিট কার্ডে দাম পরিশোধ করে কিনতে পারছেন প্রয়োজনীয় সব পণ্য।

সরকার এমন কিছু দোকান খোলার অনুমতি দিতে চলেছে যেখানে পণ্য কিউবার মুদ্রা পেসো দিয়ে কেনা যাবে না, কিনতে হবে বিদেশি মুদ্রার বিনিময়ে এই খবরটা যখন প্রথম জানা গেল, বিশ্বাসই হয়নি কারও। তবে পরে প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-কানেল বিষয়টি নিশ্চিত করলে সব সংশয় দূর হয়ে যায়।

সরকারের এই পদক্ষেপ দ্বীপদেশটিতে অর্থনৈতিক বিভাজনকে স্পষ্ট করে তুলেছে। একদিকে রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা, যারা বেতন পান কিউবান পেসোয়। অন্যদিকে রয়েছেন এমন কিছু মানুষ, যাদের প্রবাসী আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবা এমনিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রোপাগা-া যুদ্ধে ব্যস্ত থাকে। এখন সেই শত্রুর মুদ্রাই কিউবার অস্তিত্ব রক্ষায় কাজে লাগছে, দেশের ব্যর্থ অর্থনৈতিক মডেলকেও সহায়তা করছে সেই মুদ্রা।

দলীয় নেতারা এতদিন দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে অহংকার করতেন। এখন প্রকৃত অর্থে বাস্তবতার কাছে তারা হেরে গেছেন। নিজেদের মুদ্রা তো এখন স্রেফ রঙিন কাগজের টুকরোর মতো প্রায় মূল্যহীন। এই পরিস্থিতিতেও তারা ফোলা পেট নিয়ে সরকারি দপ্তরে বসে থাকতে পারছেন মূলত সবুজ রঙের ডলারের জোরে। এতদিন যে বিদেশি মুদ্রার সমালোচনা করে এসেছেন, এখন সেই মুদ্রাকেই আশা-ভরসা ভাবতে বাধ্য করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, বিদেশি মুদ্রায় পণ্য কেনার দোকানগুলোর আয় পেসোয় লেনদেন হয় এমন সরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করবে। শুধু এমন কথায় জনমনের অনাস্থা দূর করা মোটেই সহজ নয়।