ঈদে প্রিয় তারকার সিনেমা দেখতে প্রেক্ষাগৃহে যাওয়া অনেকের অভ্যাস। এ বছর পরপর দুই ঈদে হল বন্ধ থাকায় কোনো সিনেমাই মুক্তি পায়নি। কিন্তু সিনেমার তারকারা কীভাবে ঈদ কাটাবেন, কে কোথায় থাকবেন এসব ব্যাপারে দর্শকের আগ্রহের শেষ নেই। জনপ্রিয় চার সিনে তারকার ঈদ পরিকল্পনার কথা জানাচ্ছেন মাসিদ রণ
ঈদ নিয়ে কেউ যেন বাহুল্য না করি
ফেরদৌস আহমেদ
গত রোজার ঈদে আমার খুব কষ্ট লেগেছিল। প্রথমবার ঘরে করতে হয়েছিল বলে। তবে এবার আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত। ঘরেই ঈদের নামাজ পড়ব। পরিবারকে সময় দেব। এবার ঢাকার বাসায় গরু কোরবানি দিচ্ছি না। আমার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা আর স্ত্রীর বাড়ি যশোরে গরু কোরবানি দিচ্ছি। কারণ, গরু কোরবানি ও মাংস বিলানোর কাজে একটা লোক সমাগমের বিষয় থাকে, যা এই মুহূর্তে সবচেয়ে মারাত্মক। আমি সবাইকে বলতে চাই, সরকারের নির্দেশনা মেনে এবার কেউ ঈদ নিয়ে খুব বেশি বাহুল্য করবেন না। যে যেখানে আছেন সেখানেই নিরাপদে ঈদ করুন। আমি আশাবাদী দ্রুত করোনা আমাদের ছেড়ে চলে যাবে। কিন্তু আমরা যেন জীবনের সঙ্গে দুটি অভ্যাস রেখে দিই। তা হলো মাস্ক ব্যবহার ও নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। এই দুটি অভ্যাসের কারণে আমরা অনেক রোগজীবাণু থেকে মুক্ত থাকতে পারব। সবাইকে অগ্রিম ঈদ মোবারক।
মেয়েকে ঈদের আমেজটা দিতে চাই
পূর্ণিমা
এবার ঈদকে ঘিরে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। নতুন কোনো কাজও করিনি। সাধারণত ঈদের বিশেষ দু-একটা নাটকে কাজ করি। এবার তাও করিনি। আসলে যতদিন পর্যন্ত মনে করছি যে বাইরে বেরোনো ঠিক নয়, ততদিন কাজ করব না। তবে তেমন ভালো কোনো স্ক্রিপ্ট বা প্রজেক্ট হলে দেখা যাবে। অনলাইনে অনেকগুলো অনুষ্ঠানের প্রস্তাব পেয়েছি, কিন্তু সেগুলোতেও রাজি হইনি। আসলে দেশের যে অবস্থা, তাতে এখন উদযাপনটা খুব বড় কিছু নয়। আমার বাড়ির ভাড়াটিয়াদের দেখেই বুঝেছি। তাদের অনেকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আমি ভাড়া কমিয়ে দিতে চেয়েছি। তারপরও তারা ঢাকায় টিকে থাকার সাহস করছে না। এই পরিস্থিতিতে নিজের বাড়ির গ্যারেজে গরু কোরবানি করার যে রেওয়াজ ছিল সেটিও এবার বন্ধ করেছি। আমার অন্য আত্মীয়-স্বজনরা গরু কোরবানি দিচ্ছে, তাদেরকে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি। তারাই সব কিছু করে মাংস অসহায় মানুষদের মাঝে বিলিয়ে দেবে। তবে আমার মেয়েকে ঈদের আমেজটা দিতে চাই। ঈদের আগের রাতে মেহেদি পরিয়ে দেব। নতুন পোশাক কিনিনি, কিন্তু কিছু পোশাক আছে যা আগে কেনা হলেও কোনোদিন পরেনি। সেখান থেকে একটা পরবে। আর ঈদ গিফট হিসেবে তার সবচেয়ে পছন্দ খেলনা। সেগুলো কিনে রেখেছি। আর তার পছন্দের খাবার রান্না করব।
এবার শুধু গ্রামের বাড়িতে গরু কোরবানি দিচ্ছি
সিয়াম আহমেদ
এবার আসলে ঈদ হবে না আমার। প্রতিবার ঢাকা ও গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরে গরু কোরবানি দিয়ে থাকি। এবার ঢাকায় কোরবানি দিচ্ছি না। শুধু গ্রামের বাড়িতে কোরবানি দিচ্ছি। বাসায় লোকজনও কম। তার মধ্যে বাবা-মায়ের বয়স হয়েছে। তাই বাড়তি সতর্কতা মেনে চলতে হয়। তাছাড়া দেশের মানুষের মনে আসলে শান্তি নেই। নানা রকম সমস্যা। অভাবের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ দিন কাটাচ্ছে। তাই এবার ঈদে কোনো রকম অনুষ্ঠান বা আয়োজনে আমি যুক্ত হচ্ছি না। একটি কাজ করেছি। কিন্তু জানি না সেটা ঈদের আগে সব প্রস্তুতি সেরে মুক্তি পাবে কি-না। তেমন কোনো কেনাকাটাও করিনি।
ঈদ কাটাব ফার্ম হাউজে
নুসরাত ফারিয়া
লকডাউনের পর থেকেই আমি ঢাকা ছেড়ে ময়মনসিংহের পারিবারিক ফার্ম হাউজে ছিলাম। এখন কিছু কাজের জন্য ঢাকায় এসেছি। আবার ঈদের আগেই চলে যাব সেখানে। ঈদ কাটবে ফার্ম হাউজেই। পরিবারের সঙ্গে গল্প, আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া এভাবেই দিন চলে যাবে। যেহেতু ক্যামেরার সামনে আসতে হবে না তাই খুব একটা সাজগোজেরও ইচ্ছে নেই। নতুন কোনো পোশাকও কিনিনি। সাধারণত আমার বোনের শোরুম থেকে বা যাদের সঙ্গে কাজ করি তাদের দেওয়া পোশাক পরি। কিন্তু কিছু পোশাক থাকে নিজে পছন্দ করে কিনি। সেগুলো হয়তো একবার পরা হয়েছে। তেমন একটা শাড়ি বেছে নেব। গত কয়েক বছর ঈদে কেন যেন শাড়ি পরতে খুব ইচ্ছে করে। এবার ঈদেও আরামদায়ক একটি সুতি শাড়ি পরব। সঙ্গে হালকা গহনা। আগে আমার একটি পরিবার ছিল। এবার আমার জীবনসঙ্গীর পরিবার রয়েছে। তারা ঢাকায় থাকে। ইচ্ছে আছে তাদের সঙ্গেও সময় কাটানোর। আর দর্শকের জন্য এবার আমার ঈদ উপহার হিসেবে রয়েছে বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘আনন্দ মেলা’। অনুষ্ঠানটি আমি উপস্থাপনা করেছি। আশা করছি দর্শকরা অনেক দিন পর আমার উপস্থাপনা দেখে আনন্দ পাবেন। তবে ঈদের আনন্দ বেশিদিন জিইয়ে রাখতে পারব না। কারণ ঈদের তৃতীয় দিন আমার একটি অনলাইনে পরীক্ষা আছে। সেটার প্রস্তুতি নিতে হবে।