দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পর এবার রাজধানীতেই দেখা দিয়েছে বন্যা। ইতিমধ্যে রাজধানীর পূর্বাঞ্চল ও এর আশপাশের নিচু এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পানির নিচে তুরাগ অববাহিকার নিম্নাঞ্চলও। মেঘনা অববাহিকার নদ-নদী, বালু, তুরাগ, ব্রহ্মপুত্রের ভাটি অংশ ও শীতলক্ষ্যার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় গোটা রাজধানী বন্যা ঝুঁকিতে পড়েছে। বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা এসব এলাকার পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা জেলার আশপাশের নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ে সিটি করপোরেশন সংলঘœ নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হতে পারে। গতকাল সকাল ৯টায় ডেমরা পয়েন্টে বালু নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সে.মি., মিরপুর পয়েন্টে তুরাগ নদের পানি বিপদসীমার ৩২ সে.মি., নারায়ণগঞ্জ পয়েন্টে শীতলক্ষ্যার পানি বিপদসীমার ১২ সে.মি., চাঁদপুর পয়েন্টে মেঘনার পানি বিপদসীমার ২৫ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
বন্যায় রাজধানীর যেসব এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে এর মধ্যে রয়েছে ডেমরা, রামপুরার বনশ্রীর নিচু এলাকা, বেরাইদ, ময়নারটেক, সাতারকুল, বাথুরিয়া, উলুখোলা, ইছাপুড়া, ময়নারটেকসহ পূর্বাঞ্চলের নিচু এলাকা। বন্যার পানি ইতিমধ্যে ডেমরা বাজার ছুঁইছুঁই অবস্থা। রামপুরা থেকে বনশ্রী এলাকার মূল সড়কের দেড় ফুট নিচে অবস্থান করছে। সাতারকুল-বেরাইদ এলাকায় কোনো কোনো সড়কের ওপর হাঁটু সমান পানি উঠেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব এলাকায় একবারে পানি ওঠেনি। প্রতিদিন একটু একটু করে পানি বাড়ছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিগত ১৫ বছরেও তারা এত পানি দেখেনি বলে জানিয়েছেন।
বানের পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সেখানকার বসবাসকারীরা। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। পানিবন্দি এসব মানুষের স্যানিটেশন ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। ওইসব এলাকার বড় একটি অংশ এখনো মাটির চুলায় রান্না করে থাকেন। বন্যার পানিতে চুলা ডুবে যাওয়ায় ও কাঠ ভিজে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাছের ঘের ডুবে ভেসে গেছে কোটি টাকার মাছ। করোনার মধ্যে বন্যায় অনেক দিনমজুর কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কিন্তু কোনো ত্রাণ তাদের কাছে পৌঁছায়নি।
ডেমরার কোনাপাড়ার বাসিন্দা রেদওয়ান বলেন, ‘প্রথমে যখন পানি আসতেছিল তখন বুঝিনি এত বেশি পানি হবে। এখন দেখতেছি প্রতিদিন পানি বাড়ছে। শুনছি পানি নাকি আরও বাড়বে। করোনায় অনেক দিন বেকার ছিলাম। বন্যায় একেবারেই কাম-কাজ বন্ধ। এমন হলে না খেয়ে থাকতে হবে।’
উলুখোলার বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘১৫ লাখ টাকার মাছ ফালাইছিলাম। বন্যার পানিতে সব ডুবে গেছে। জাল দিয়াও আাটকানো যায়নি। মাছ কেনার সময় কিছু টাকা ধার নিয়েছিলাম। এখন এই টাকা শোধ দেব কীভাবে?’