‘স্যার হামাক গোশত দেইল তাহে দিয়া খামো’

ঈদের দিন সকাল থেকে কিছু খাননি যাত্রাপুর চর এলাকার বাসিন্দা মোছা। নুর বানু। জেলা পুলিশের উপহার পেয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'এসপি স্যার হামাক গোশত ( মাংস) দোইল তাহে দিয়া দুপরা খামো'। 

তিনি বলেন, 'পানি ভাঙ্গি কাই হামাক দেখপাইর আইসে, স্যার আইসছে আল্লাহ ওমার ভাল করুক'।

শনিবার কুড়িগ্রামে সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে  ঈদ উপহার হিসেবে গরুর মাংস পেয়ে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে প্রতিবেদকে এসব বলেন তিনি। 
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে এই উপহার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান। এ সময় প্রায় ৩০০ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার দেয়া হয়।

পাঁচ সদস্যের পরিবারের নূর বানুর পরপর দু'দফা বন্যায় হওয়া ক্ষতির কিছুটা পুষিয়েছে এ ঈদ উপহার। 

তিনি আরো বলেন, 'গতবারও স্যার আমার উপহার দিছে খাবার দিছে। আর এবারও দেইল। আজ এক বেলা শান্তিমতো ভাত খাবার পামো' ।
নূর বানুর মতো এলাকার আরেক বাসিন্দা আবেদ  আলী তার পেশা কৃষিকাজ। টানা দু'দফা বন্যায় এখন তিনি বেকার, হাতে কোনো কাজ নেই। তিনিও ঈদ উপহার নিতে এসেছেন। 

ঈদ উপহার পেয়ে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার তো কাম কাজ তিন মাস ধরে নাই অভাব-অনটনে দিন গেল। এর মাঝে দুই-তিনজন আসছিল ত্রাণ দিয়েছিল তা দিয়ে চলছিলং। আইজ ঈদের দিন গোস্ত খামো।

এ চরে ৫০ শতাংশ মানুষ  কৃষিকাজ ও মাছ ধরায় যুক্ত উল্লেখ করে আতাউর রহমান নামের এক বাসিন্দা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি বন্যার কারণে। জেলেরা মাছ ধরতে পারছে না এবং কৃষিকাজে হচ্ছে না। এলাকার মানুষেরা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। তবে আজকের উপহার পেয়ে বেশ সন্তুষ্ট আমরা। 

ঈদ উপহার বিতরণ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, আমি চেষ্টা করি সবসময় অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে থাকার। আর আজকের এই উদ্যোগটি আমি ও আমার বন্ধু-বান্ধবদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার উদ্যোগ। গত বছর জয়েন করার পর আমি এখানে ঈদ উপহার দিয়েছি। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আমরা কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সবসময় তাদের পাশে আছি। যে কোনো সংকটময় মুহূর্তে তাদের পাশে থাকব।