লন্ডনের পাতাল রেলের অলগেট ইস্ট স্টেশনে নেমে মিনিট দুয়েক হাঁটলেই ব্রিক লেন। বাংলাটাউনের শুরু। এই এলাকায় গেলেই আপনি বুঝতে পারবেন শুধুমাত্র খাবারের ঐতিহ্যে ভর করে একটি জাতিগোষ্ঠী কীভাবে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে পারে ব্রিটেনের মতো কোনো ভিন দেশে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল বাংলাদেশের এই পরিচয় এখন শেষের ডাক শুনতে পাচ্ছে। জাতিসমতা নিয়ে কাজ করা রানিমেড ট্রাস্টের একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশিদের রেস্টুরেন্ট ব্যবসার এই দুর্দশার কথা উঠে এসেছে।
তথ্যচিত্র ভিত্তিক গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনটি তৈরিতে সাহায্য করেছে দ্য ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঐতিহ্যবাহী এই ব্যবসার পরিস্থিতি ২০০৫ সালের দিক থেকে খারাপ হতে থাকে। অনেক দোকান ইতিমধ্যে শ্বেতাঙ্গ কিংবা অন্য অঞ্চলের মানুষেরা কিনে নিয়েছেন।
এলাকাটি বাংলাদেশি কমিউনিটির জীবনমান পরিবর্তনে কী ভূমিকা রেখেছে তা তুলে ধরা হয়েছে ‘বাংলাটাউনের নেপথ্যে’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে।
মেট্রো নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেরও অনেক আগে থেকে এই এলাকা বাংলাদেশিদের প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠে। সেই থেকে বাঙালি অভিবাসীদের ইতিহাসে সমৃদ্ধ হতে থাকে এলাকাটি। পরে যুদ্ধপরবর্তী সময়ে সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে।
রানিমেড ট্রাস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই দিন আর এখন নেই। বাংলাদেশি অভিবাসীরা আধুনিক যুগে ছন্নছাড়া হয়ে গেছেন। অনেকে হয়েছেন বাস্তুচ্যুত।
গত ১৫ বছরে ঐতিহ্যবাহী কারি ব্যবসা কমেছে ৬২ শতাংশ। ২০০০ সালের দিকে যেখানে ৬০টি কারি হাউজ ছিল,২০ বছর বাদে এখন আছে ২৩টি! এই ২৩টির অবস্থাও বেহাল। করোনায় তাদের অবস্থা রীতিমতো ‘মুমূর্ষু’।
শামস উদ্দিন ‘দ্য মনসুন’ রেস্টুরেন্ট চালাচ্ছেন প্রায় ২১ বছর ধরে। নিজেদের ব্যবসার বেহাল দশার কথা তুলে ধরে মেট্রোকে তিনি বলেন, ‘আগে প্রতি রবিবার আমরা ৯০ থেকে ১১০ জনকে খাওয়াতাম। এই রবিবার পেয়েছি মাত্র ১৩ জনকে।’
সন্ধ্যা ৫টার দিকে রেস্টুরেন্টে বসে কথা বলতে বলতে তিনি জানান, এখন কোনো কাস্টমার নেই।
‘যুক্তরাজ্যে যত এলাকা করোনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার মধ্যে বাংলাটাউন একটি। কারণ আমাদের অধিকাংশ ক্রেতা কর্মজীবী অথবা ভ্রমণকারী। তাদের ছাড়া এখন আমরা পতনের মুখে।’
‘গ্রীষ্মের সময় আমেরিকা, কানাডা, জাপান, ইউরোপের মানুষ এখানে আসতো। এখন একজনও ভ্রমণকারী নেই।’
শামস বলছেন তিনি সামনে অন্ধকার দেখছেন, ‘আমি চিন্তিত। অদূর ভবিষ্যতে অন্ধকার অপেক্ষা করছে। সরকারের থেকে বাংলাটাউনের জন্য বিশেষ সুবিধা দরকার।’