ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের শৌনলৌহঘর গ্রামে বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় এক প্রবাসীর বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ি ভাঙচুর ও জিনিসপত্র লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শৌনলৌহঘর গ্রামে সৌদি প্রবাসী মো. আব্দুল্লাহর আপন চাচা হান্নান ও তার ছেলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ।
গত ৭ জুলাই সকালে এই ঘটনা ঘটে। এ হামলায় আহত হয়েছে শিশু ও নারীসহ অন্তত ৩ জন। এ ঘটনায় আখাউড়া থানায় ৬ জনকে আসামি করে গত ২৭ জুলাই একটি অভিযোগ দায়ের করেন প্রবাসে থাকা মো. আব্দুল্লাহর অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী লাকী আক্তার।
অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- শৌনলৌঘরের মৃত আবদুল বারেকের ছেলে প্রবাসীর আপন চাচা হান্নান মিয়া, হান্নানের ছেলে হৃদয় মিয়া, মৃত আব্দুল বারেকের ছেলে আব্দুল রকিব, আব্দুল আলীর স্ত্রী হেলেনা, আব্দুল রউফের মেয়ে শামছুন্নাহার এবং আব্দুর রউফের মেয়ে শিউলি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, লাকী আক্তারের স্বামী বিদেশ থাকায় তার ছোট দুই বোন বাসায় থেকে পড়াশুনা করতেন। এ সময় হান্নানের ছেলে হৃদয় লাকীর ছোট বোনের স্বাভাবিক চলাফেরায় বাধার সৃষ্টি করে বিভিন্ন অশালীন কথাবার্তা ও অঙ্গভঙ্গি করেন এবং রাস্তায় চলাফেরার সময় উত্ত্যক্ত করেন। বিষয়টি একাধিকবার হান্নানকে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। নিরুপায় হয়ে এ বিষয়ে কোনো বিচার না পেয়ে মনিয়ন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে মৌখিকভাবে জানালে হান্নান এবং তার ছেলে হৃদয় লাকীর পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ জুলাই ছোট বোন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পুকুরপাড়ে হাঁটতে গেলে হৃদয় লাকীর ছোট বোনকে একা পেয়ে তার হাত ধরে টানাহেঁচড়া করে। পরে বিষয়টি আখাউড়া থানায়, চেয়ারম্যান অফিসে জানালে তারা সকাল ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লাকীর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে ঘরের সব আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় তিন লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয় বলে জানান লাকী।
এ বিষয়ে সৌদি আরবে থাকা প্রবাসী মো. আব্দুল্লাহ মুঠোফোনে বলেন, তার চাচা হান্নান মিয়া ও তার ছেলে হৃদয় মিয়া বেশ কিছুদিন ধরে তার পরিবারের উপর অত্যাচার চালিয়ে আসছে। আমি একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা, দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে আছি। আমার পরিবারের উপর এমন অত্যাচারের সুষ্ঠু নিরপেক্ষ একটি বিচার দাবি করছি।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত হান্নান মিয়া বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। গ্রাম্যশালিসেও অন্যায়ভাবে একটি রায় করা হয়েছে আমার বিরুদ্ধে।
মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল ভূইয়া বলেন, বিষটি নিয়ে আমরা গ্রাম্য শালিসে বসে একটি রায় করেছিলাম কিন্তু হান্নান সেই রায় শালিস মানলেও পরে সেই রায় মানেননি। পরে তাকে পরপর তিন বার নোটিশের মাধ্যমে ডাকা হলেও সে আসেনি।
অভিযোগ তদন্তকারী আখাউড়া থানার এসআই এরশাদ জানান, আখাউড়া থানায় লাকী আক্তারের দেওয়া অভিযোগটি আমি তদন্ত করছি। চেষ্টা করছি দুই পরিবারকে থানায় ডেকে এনে মীমাংসা করে দেওয়ার জন্য।