১৭ মৃত্যু: অতি উচ্ছ্বাসের সলিল সমাধি

ময়মনসিংহ থেকে মিনি কক্সবাজার হিসাবে পরিচিতি পাওয়া নেত্রকোনার মদন উপজেলায় উচিতপুরে বেড়াতে এসে ট্রলারডুবিতে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দিগুন যাত্রী বোঝাইকে দায়ী করেছে প্রশাসন। তারা বলছেন, ২০-২৫ জনের ট্রলারে যাত্রী উঠেছিলেন ৪৮ জন। উপরন্তু তারা ট্রলারে উঠে বেশ নড়াচড়াও করছিলেন। যার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘুরতে আসা মাদ্রাসা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরিবারের সদস্যসহ ৪৮ জন ট্রলারে উঠে মদন উচিৎপুর ঘাট থেকে রাজালীকান্দার রামদীঘা বিলে পৌঁছাতেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন এবং সাত থেকে ১২ বছর বয়সী ছয় শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে।

মৃতরা হলেন, মাহফুজুর রহমান (৪৫), শফিকুর রহমান (৪০), ইসা মিয়া (৪০), আজহারুল ইসলাম (৩৮), মাহমুদ মিয়া (১২), আসিফ (১৫), সামাআন (২০), রেজাউল করিম (১৬), মুজাহিদ মিয়া (১৭), হামিদুল ৩৫), সাইফুল ইসলাম রতন (৩০) জুবায়ের (২২), জহিরুল ইসলাম (৩৫), জাহিদ (২০), রাকিব (২০), লুবনা আক্তার (১০), জুলফা আক্তার (৭)। স্বাধ (২৬) নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মদনের উচিৎপুর ঘাটে ট্রলার চালক অতিরিক্ত বোঝাই করে ২০/২৫ জনের নৌকায় ৪৮ জনের মতো যাত্রী তুলে মদনের সামনের হাওরে যায়। এ সময় প্রবল বাতাস ছিল। নৌকায় যাত্রীরা নড়াচড়াও করছিলেন। যার কারণে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। তাদের মধ্যে সাঁতরে ৩০ জনের মতো তীরে উঠতে পারলেও বাকিরা মারা যান।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নেত্রকোনা ও মদন  ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার খানে আলমের নেতৃত্বে ১৭টি লাশ উদ্ধার করা হয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ একজনকে উদ্ধার তৎপরতা চলমান রয়েছে।

মদন থানার ওসি মো. রমিজুল হক সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন এখনো উদ্ধার কাজ চলছে।