বন্যায় চাঁদপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

চাঁদপুরে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে শহরের নিম্নাঞ্চল। বুধবার বিকেল থেকে হঠাৎ করে মেঘনা নদীর জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে চাঁদপুরে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লাসহ হাইমচর উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এদিন বিপৎসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর পানি প্রবাহিত হয়েছে।

মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে শহরের আদালত পাড়া, রহমতপুর কলোনি, প্রফেসর পাড়াসহ পুরানবাজারের বিভিন্ন এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়। এ ছাড়া রাস্তার ওপর দিয়ে পানি উঠে প্লাবিত হয়েছে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী, হাইমচর সদর ও নীলকমল ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের বসতঘর।

তা ছাড়া উপজেলার মহজমপুর, চরভাঙ্গা এলাকায়, বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে সেচ প্রকল্প এলাকা পানিতে তলিয়েছে। বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, ঝিল, পুকুর, সড়ক প্লাবিত হয়েছে। ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

চাঁদপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ বাবুল আখতার বলেন, দক্ষিণের বাতাস, পূর্ণিমার প্রভাব ও উজানের পানি বৃদ্ধির ফলে মেঘনা নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায়। এতে করে চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকাসহ হাইমচর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন পানিতে প্লাবিত হয়ে বন্যার দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে চাঁদপুর শহর রক্ষাবাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। আশা করি ভাটার সময় পানি নেমে যাবে। তবে আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পরিস্থিতি বুঝে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান বলেন, হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পেয়ে শহরে বন্যা দেখা দেয়। বিগত কয়েক দিন যাবৎ জেলার চরাঞ্চলগুলোতে বন্যা থাকলেও শহরে পানি ওঠেনি। বুধবারের পানিতে শহরের বিভিন্ন মহল্লার বাসিন্দারা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। আশা করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। পরিস্থিতি যাই ধারণ করুক না কেন জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে তা মোকাবিলায়।