মেঘালয়ে টানা ভারি বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় উপদাখালি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও জেলার বেশিরভাগ নদ নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, কমলাকান্দায় সোমেশ্বরী শাখার উপদাখালী ডাকবাংলো পয়েন্টে নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল থেকে সোমেশ্বরী নদীর পানি বাড়লেও দুর্গাপুর পয়েন্টে ১৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে কংস নদীর পানি জারিয়া পয়েন্ট বিপদসীমার ১৩২ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।
কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্তের খারনৈ ইউনিয়নের গজারমারি এলাকায় পানি ঢুকে তীব্র স্রোতে গজারমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাংশ ভেঙে গেছে। নাজিরপুর ও লেংগুরা ইউনিয়নের নলছাপ্রা বাজার–বালুচড়া উচ্চ বিদ্যালয় সড়কের প্রায় ১০০ ফুট অংশ পানির স্রোতে ধসে গেছে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহারকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তবে সকাল থেকে বৃষ্টি না থাকায় ঢলের পানি নেমেও যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানায়, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের পানি স্থায়ী না হলেও কয়েক ঘণ্টায় অনেক ক্ষতি করে ফেলে। এছাড়া এখন পর্যন্ত কোথাও বন্যা পরিস্থিতির মতো কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বৃষ্টি আর না আসলে নদ নদীর পানিও কমতে থাকবে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।
লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া জানান, নলছাপ্রা বাজার–বালুচড়া উচ্চ বিদ্যালয় সড়কসহ ইউনিয়নের একাধিক স্থানে ঢলের তীব্র স্রোতে রাস্তা ভেঙে গেছে। চেংনী নদীর পাড় ভেঙে প্রায় ৫০ একর ফসলি জমিতে বালু জমেছে। এতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ছোট-বড় শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং আমনের বীজতলাও বালু পড়ে নষ্ট হয়েছে।
খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউএনপি) চেয়ারম্যান ওবাইদুল হক জানান, পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কাঁচা সড়কও ভেঙে গেছে। এছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন কাঁচা ও পাকা সড়কে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আমনের বীজতলা এবং পুকুর মাছের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।