হোম অফিস বাতিল

কর্মকর্তাদের ৯-৫টা অফিস করার নির্দেশ

হোম অফিস বাতিল করে কর্মকর্তাদের সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিয়মিত অফিস করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নিজেদের মতো করে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। ইতিমধ্যে জনপ্রশাসন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

গতকাল বুধবার জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস করতে হবে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ, অসুস্থ ও সন্তানসম্ভবা নারী কর্মকর্তাদের অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে না। কর্মচারীদের মধ্যে কারা অফিস করবেন তা নির্ধারণ করবেন শাখার অফিসার।’এ বিষয়ে কোনো অফিস আদেশ জারি করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কর্মকর্তাদের অফিস করার জন্য কোনো আদেশের দরকার নেই।’

গত মার্চের শুরুতে দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার শুরু হলে পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যেতে থাকে। এ অবস্থায় গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে সাত দফায় ছুটি বাড়ানো হয়। টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে গত ৩১ মে অফিস খোলা হয়। তখন থেকে সীমিত পরিসরে অফিস শুরু হয়। এ সময় মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারিকৃত ১৩ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়।

গত ১ জুন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছিলেন, সচিবালয়ে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে অফিসের কাজ চলবে। একই সময় আরও ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী অনলাইনে কাজে যুক্ত থাকবেন। এভাবে পালাক্রমে অফিসের কাজ চলবে। মন্ত্রণালয়গুলোকে বলা হয়েছে অত্যাবশ্যকীয় কাজগুলোই শুধু করার জন্য। সে ক্ষেত্রে চার ভাগের এক ভাগ বা পাঁচ ভাগের এক ভাগ কর্মকর্তা অফিসে উপস্থিত থাকবেন। কেউ যাতে অফিসে এসে ইনফেক্টেড না হন।

সরকারের এ নির্দেশনার পর কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিয়মিত অফিস করলেও বেশিরভাগ কর্মকর্তা বাসায় বসেই কাজ চালিয়ে নিচ্ছিলেন। শাখার কর্মচারীরা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল অনেক কর্মকর্তার বাসায় নিয়েও স্বাক্ষর করিয়ে আনতেন। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কর্মকর্তাদের ডিউটি রোস্টার করে দেয়। সেই রোস্টার অনুযায়ী একেক দিন একেক কর্মকর্তা অফিসে উপস্থিত হতেন। তিনি বিভিন্ন বিভাগের কাজের মধ্যে সমন্বয় করতেন।

হোম অফিস বাতিল করে কর্মকর্তাদের সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস করার নির্দেশ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে এক নীতিনির্ধারক কর্মকর্তা বলেন, সরকার খুব দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে চাচ্ছে। দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্য সরকারের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। কর্মকর্তাদের অফিসে এনে এরপর কর্মচারীদেরও অফিসে ফিরিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের সুরক্ষার বিষয়ে জোর দেওয়া হবে। প্রতিটি কর্মক্ষেত্রকে নিরাপদ করার কথাও বলা হয়েছে।

জানা গেছে, ঈদের আগে বন্যা ও কভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক ডাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। সেখানেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব কর্মকর্তাদের নিয়মিত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। সচিবদের তাদের মতো করে কর্মকর্তাদের অফিসে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়। সেই বৈঠক থেকে ফিরেই সচিবরা তাদের কর্মকর্তাদের ৯টা-৫টা অফিস করার নির্দেশ দেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এসএমএস দিয়ে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে।

গতকাল সচিবালয় ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে প্রায় সব কর্মকর্তাই উপস্থিত রয়েছেন। কর্মচারীদের সংখ্যা সীমিত হলেও কর্মকর্তারা হাজির হয়েছেন। জনপ্রশাসন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রায় সব কর্মকর্তাই উপস্থিত ছিলেন। কয়েকজন ঈদ-পরবর্তী ছুটিতে থাকলেও তারাও শিগগিরই কাজে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অতিরিক্ত সচিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তটি কর্মকর্তাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেবে। যেখানে প্রতিদিনই মানুষ মারা যাচ্ছে সেখানে সরকারের উচিত ছিল আরও কিছুদিন ঢিলেঢালাভাবে কাজ চালিয়ে নেওয়া। কোনো কাজে তো সমস্যা হচ্ছিল না। সরকার যে সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছে তা সময়মতো নিতে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কর্মকর্তাদের জন্য সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত আটকে ছিল না।