বাড়ছে বৈষম্য

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের থাবায় আক্রান্ত আজ বিশ্বের সব মানুষ। অনেক হিসাব-নিকাশ, নিয়ম-কানুন পাল্টে দিয়েছে করোনাভাইরাস। মানুষ এখন বাসাবাড়ি থেকেই অফিসের কাজ করছে। আবার বহু মানুষ অর্থনৈতিক এ কেন্দ্র পরিবর্তনের ধাক্কায় বেকার হয়ে যাচ্ছেন। কবে নাগাদ এ অবস্থা স্বাভাবিক হবে তার কোনো ইঙ্গিত দিতে পারছেন না অর্থনীতিবিদরা। সাম্প্রতিক নতুন এক গবেষণা বলছে, কম মজুরির শ্রমিকরা স্বল্প স্থানে একত্রে অনেকে মিলে কাজ করে, ফলে তাদের মধ্যে করোনার বিস্তার ঘটে বেশি। অধিক বেতনভুক্ত কর্মচারীদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ তুলনামূলক কম।

বাসা থেকে অফিসের কাজ করার ব্যাপারে কিছু সমস্যাও রয়েছে। সব কাজ বাসা থেকে করা সম্ভব নয়। অর্থনীতিবিদ সিমন মঙ্গে ও আলেকজান্ডার ওয়েইনবার্গের মতে, মহামারীর মধ্যে শ্রমিকদের বাড়ি থেকে কাজ করার সঙ্গে অর্থনৈতিক সামর্থ্যরে যোগ আছে। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ডিগ্রি নেই এমন মানুষদের পক্ষে বাসায় বসে কাজ করা মুশকিল। আর বর্তমান শ্রমবাজারে এমন মানুষের অধিকাংশেরই বয়স পঞ্চাশোর্ধ। এ শ্রমিকদের অধিকাংশই যে কাজ করেন তাতে অন্যের সংস্পর্শে তাদের যেতে হয়। করোনাভাইরাসের এ সময়ে পঞ্চাশোর্ধ মানুষেরাই অধিক ঝুঁকির মধ্যে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারগুলো এ শ্রমিকদের জন্য আর্থিক প্রণোদনামূলক প্যাকেজের ঘোষণা দেবে কি না। কারণ সরকারগুলোর এ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে আগামীতে শিল্পের প্রতি শ্রমিকদের আস্থাশীলতা থাকবে কতটুকু।

এক পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট চাকরির ৩৭ শতাংশই বাড়িতে বসে করা সম্ভব। যেসব কাজ বাড়িতে বসে করা যায়, সেগুলোর বেতনও তুলনামূলক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের চাকরিজীবীদের মোট বেতনের ৪৬ শতাংশ পায় ওই ৩৭ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী। অর্থনীতিবিদরা এ চিত্রকে বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেছেন। ৬৩ শতাংশ চাকরি বাড়িতে বসে করা যায় না। কৃষি, খাদ্য, উৎপাদন ও পরিবহনসংক্রান্ত কাজ বাড়িতে বসে সম্ভব নয়। অথচ এ পেশাগুলোতেই মজুরির হার তুলনামূলক অনেক কম। অতীতের মহামারীগুলোতে শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ভিন্ন চেহারা দেখা গিয়েছিল। তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল অধিক মজুরিসম্পন্ন কর্মচারীরা। কিন্তু মহামারীর পরে অর্থনৈতিক দখলদারিত্বের হাত ধরে তারা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পেরেছিল। এবারের মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা অর্থনৈতিক ক্ষমতাবৃত্তের সঙ্গে যুক্ত নন, ফলে তাদের পক্ষে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সহজ হবে না বলেই মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।