করোনা আক্রান্ত ৪ জনকে ছাড়াই ক্যাম্প

বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইপর্ব সামনে রেখে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় দলের আবাসিক ক্যাম্পের প্রক্রিয়া। কভিড-১৯ টেস্টের মাধ্যমে ফুটবলারদের গাজীপুরের ক্যাম্পে নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রথম দিনে এসেছে বড় দুঃসংবাদ। প্রথম ধাপে ১২ ফুটবলারের মধ্যে চারজনের কভিড-১৯ পজিটিভ এসেছে। এর মধ্যে ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ আগের দিনই জেনে গিয়েছিলেন তিনি পজিটিভ। গতকাল বাফুফের উদ্যোগে কভিড-১৯ টেস্ট করানোর পর আক্রান্ত হওয়ার খবর পান প্রথমবারের মতো ডাক পাওয়া তিন ফুটবলার- ম্যাথিউজ বাবলু, নাজমুল ইসলাম রাসেল ও সুমন রেজা। তাদের রেখে গতকাল কভিড-১৯ পরীক্ষায় নেগেটিভ আসা ৮ ফুটবলারকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে গাজীপুরের সারাহ রিসোর্টে। বাফুফের মেডিকেল কমিটির পক্ষে ডাক্তার ইমরান জানান, আক্রান্ত ফুটবলারদের মধ্যে উপসর্গ ছিল না। তাদের বাসায় রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সপ্তাহখানেক পর তাদের আবার করোনা পরীক্ষা করানো হবে।

ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগে প্রাথমিক দলে ডাক পাওয়া ফুটবলারদের নিজ উদ্যোগে করোনা পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক ছিল। ৩ আগস্ট রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে সস্ত্রীক কভিড-১৯ পরীক্ষা করান বসুন্ধরা কিংসের এই ডিফেন্ডার। পরের দিন তাদের দুজনেরই রিপোর্ট পজিটিভ আসে। গতকাল অন্য ফুটবলারদের সঙ্গে ফের পরীক্ষা করান বিশ্বনাথ। এই রিপোর্টও পজিটিভ আসায় তাকে রেখে গতকাল রাতে গাজীপুরে চলে যান বাকি ফুটবলাররা। জাতীয় দলের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু জানিয়েছেন পজিটিভ আসা নতুন তিন ফুটবলারও ব্যক্তি উদ্যোগে পরীক্ষা করিয়েছিলেন। এর মধ্যে সুমন রেজা ব্যক্তি উদ্যোগে করা পরীক্ষায় নেগেটিভ আসা রিপোর্ট নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু গতকাল করা টেস্টে তার পজিটিভ আসে।   

গতকাল ১২ ফুটবলার ও দুজন স্থানীয় কোচসহ মোট ২০ জনের কভিড-১৯ পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করেছিল বাফুফে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালে নমুনা দেওয়ার পর বিশ্বনাথ বাসায় ফিরে গেলেও বাকি ফুটবলারদের বাফুফে ভবনের চতুর্থ তলায় ডরমিটরিতে রাখা হয়। রাতে সবার রিপোর্ট আসার পর বাসে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় গাজীপুরে। ফুটবলারদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাসের ড্রাইভার ও তার দুজন সহকারীকেও কভিড-১৯ টেস্ট করানো হয়েছে। এছাড়া দলের স্টাফদেরও এই পরীক্ষা করা হয়েছে। আজ দ্বিতীয় ধাপে আরও ১২জন ও আগামীকাল সাত ফুটবলারকে একই প্রক্রিয়ায় কভিড-১৯ টেস্ট করানোর পর ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হবে।

করোনা পজিটিভ এলেও বিশ্বনাথ জানিয়েছেন তার মধ্যে কোনোরকম উপসর্গ ছিল না। বাসাতেই বেশিরভাগ সময় অবস্থান করলেও মাঝে মাঝে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে বাজারে যেতে হয়েছে কিছুদিন আগে বিয়ে করা বিশ্বনাথকে। এছাড়া বসুন্ধরা কিংসের জিমে নিয়মিতই গা গরম করেছেন। গতকাল তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এমনিতে আমার কোনো প্রকার শারীরিক সমস্যা নেই। বাফুফে কভিড-১৯ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করায় ৩ আগস্ট এভারকেয়ার হাসপাতালে নমুনা দিয়ে আসি। পরের দিন রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এখন সেই হাসপাতালের ডাক্তারদের পরামর্শ মতো আমি আর আমার স্ত্রী বাসাতে চিকিৎসা নিচ্ছি।’ নেগেটিভ আসা ফরোয়ার্ড বিপলু আহমেদ দীর্ঘ সময় বাদে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিতে পেরে খুশি, ‘দীর্ঘ চারমাস আমরা করোনার কারণে ঘরে বসেছিলাম। ক্যাম্পটা যে আবার শুরু হচ্ছে সেটা ভেবেই ভালো লাগছে। বাসায় চেষ্টা করেছি ফিটনেস ধরে রাখতে। কিন্তু এক সঙ্গে অনুশীলন করার যে সুবিধা সেটা তো পাইনি। এখন আশা করছি সবাই আমরা গুরুত্ব দিয়ে ক্যাম্পে পরিশ্রম করে বাছাইয়ের ম্যাচগুলোর জন্য প্রস্তুত হব।’

করোনার কারণে স্থগিত বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইয়ের চারটি ম্যাচ অক্টোবর থেকে শুরু হবে। ফেরার ম্যাচে বাংলাদেশ সিলেটে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে ৮ অক্টোবর। এ জন্য সারাহ রিসোর্টে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে দূরত্ব বজায় রেখে চলবে অনুশীলন। ইংলিশ হেড কোচ জেমি ডে এলে ২২ অক্টোবর থেকে পুরোদমে ক্যাম্প শুরুর কথা রয়েছে।