৩২৮, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামলে এই সংখ্যায় সতর্ক থাকতে হবে ইংল্যান্ডকে। ওয়ানডেতে আইরিশদের বিপক্ষে দুবার এই সংখ্যায় থেমেছে ইংলিশরা। দুবারই হারতে হয়েছে তাদের। একটি সেই ৯ বছর আগে ২০১১ বিশ্বকাপে, আর নিকটতমটি গত পরশু তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ লড়াইয়ে। তফাৎটা শুধু ১ রানের, ২০১১ বিশ্বকাপে ৩২৮ এর টার্গেট ছিল, আর এবার ৩২৮ এ থেমেছিল ইংল্যান্ড।
ওয়েন মরগ্যানের সেঞ্চুরিতে সাউদাম্পটনে সিরিজের শেষ ম্যাচে ৩২৮ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। জবাবে পল স্টার্লিং ও অ্যান্ডি বালবির্নির দুর্দান্ত দুই সেঞ্চুরিতে এক বল বাকি থাকে ৭ উইকেটের দারুণ এক জয় তুলে নেয় আয়ারল্যান্ড। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২ দেখায় এটি আইরিশদের দ্বিতীয় জয়। এছাড়া ২০১৫ বিশ্বকাপে উইন্ডিজকে হারানোর পর কোনো বড় দলের বিপক্ষে এটাই প্রথম জয় ২০১৭ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়া দেশটির।
ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ডের এই সিরিজ দিয়েই ১৩ দলের বিশ্বকাপ সুপার লিগ শুরু হয়েছে। ২০২৩ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব বলা চলে এই আসরকে। এখানে এক দল হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে আটটি করে সিরিজ খেলবে। ম্যাচ জিতলেই ১০ পয়েন্ট। সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডে হেরে বসা আয়ারল্যান্ডের জন্য তাই পয়েন্ট নিয়ে শেষ করার হিসাবটা কঠিনই ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১০ পয়েন্ট অর্জন করেছে তারা। ২০১১ সালে বেঙ্গালুরুতে ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে ৩২৭ রান করেছিল ইংল্যান্ড। জবাবে কেভিন ও’ব্রায়েনের সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ৩২৯ রান তুলে জয় তুলে নেয় আয়ারল্যান্ড। যা ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড। সেদিনের মতো মঙ্গলবারও দলের পক্ষে জয়সূচক রান তুলে মাঠ ছেড়েছেন কেভিন ও’ব্রায়েন।
ম্যাচটি আইরিশম্যানদের ম্যাচ হিসেবে ইতিহাস হয়ে থাকবে। আয়ারল্যান্ডের অসাধারণ রান তাড়ার আগে ইংল্যান্ডের হয়ে সেঞ্চুরি করেছেন যে মরগ্যান, তিনি এক আইরিশ। ৪৪ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়া দলকে ৮৪ বলে ১০৬ রানের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে টেনে তোলেন মরগ্যান। ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের এটি ১২তম সেঞ্চুরি। আর জন্মভূমি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়। এছাড়া টম ব্যান্টন ৫৮ ও ডেভিড উইলি ৫১ রান করেন। জবাব দিতে নামা আয়ারল্যান্ড সিরিজে এই প্রথম শুরুতেই কক্ষচ্যুত হয়নি। এক উইকেট হারালেও স্টার্লিং নিজের নবম ও বালবির্নি ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতে সামলে নেন সবটা। স্টারলিং ১২৮ বলে ১৪২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। বালবির্নি ১১২ বলে করেন ১১৩ রান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুজনেরই এটি প্রথম সেঞ্চুরি। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনের ২১৪ রানের জুটি আয়ারল্যান্ডের পক্ষে এই উইকেটের রেকর্ড আর সবমিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
দারুণ একটি জয় শেষে ম্যাচ সেরা স্টার্লিং বলেন, বিশাল রানের চাপে চাপা পড়লেও আত্মবিশ্বাস হারাননি তারা, ‘সুপার লিগে প্রথম জয় পাওয়াটা দারুণ। বিশেষ করে গত দু’ম্যাচে কঠিন পারফরম্যান্সের পর এবার ভালো কিছু পাওয়া সত্যি দারুণ। আমরা সিরিজে ফেরার জন্য এই ম্যাচে কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং নিজেদের প্রমাণ করেছি। এবার বিশাল লক্ষ্য হলেও আমরা ভয় পাইনি। আত্মবিশ্বাস রেখেছিলাম যে আমরা এ রান টপকে যেতে পারব, কারণ বিশ্বকাপে আমরা বেশ কয়েকবার তিনশো অতিক্রম করে জিতেছি। শেষ পর্যন্ত আমদের জয়টা ভালো রান তাড়ার প্রমাণ রেখেই এসেছে। আর ব্যক্তিগত হিসেবে ইংল্যান্ডের মাটিতে তাদের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা সত্যি গর্বের।’
এদিকে মাতৃভূমির জয়কে প্রশংসায় ভিজিয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক মরগ্যান। বন্ধু স্টার্লিংয়েরও প্রশংসা করেছেন, ‘স্টার্লিংয়ের জন্য দারুণ একটি দিন। এটা তার সামর্থ্যরে প্রমাণ। আমরা বিশ্বাস করি আয়ারল্যান্ড সব সময়ই বিশ্বমানের দল। তারা সুযোগ মতো অবশ্যই আপনাকে ভোগাবে। আজ ওদের সুযোগটা এসেছে। আয়ারল্যান্ড সত্যি ভালো খেলেছে এবং যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে। আজ আয়ারল্যান্ড দেখিয়ে দিল যে একটা বাজে দিন কাটলে কত সহজে আমরা হেরে যেতে পারি।’