সিনিয়র ক্রিকেটাররা এই সেশনটার অপেক্ষায় ছিলেন। জুনিয়র ক্রিকেটাররাও এমন একটি সেশনের পর আরও উদ্দীপ্ত। বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেটার ও গ্যারি কার্স্টেনের ভার্চুয়াল মিটিংয়ে সেতুবন্ধনের কাজটা করলেন এই দেশের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। উপস্থিত ছিলেন অন্য কোচিং স্টাফও। সব মিলিয়ে গতকাল বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা চমৎকার একটা ভিডিও সেশন করেছেন বলেই জানা গেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার গ্যারি কার্স্টেন ভারতকে ২০১১ বিশ্বকাপ জেতানো কোচ। বিসিবির সঙ্গে তার সম্পর্কটা অনেক ভালো। আর যখন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচ ছিলেন তখন তার সহকারীর দায়িত্ব পালন করতেন ডমিঙ্গো। কার্স্টেনের সঙ্গে তার বোঝাপড়াও ভালো। ঈদের ছুটির পর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আরেকটু ক্রিকেটের মধ্যে টেনে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয় কার্স্টেনের সঙ্গে এই ভিডিও সেশনের।
সেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের প্রশ্ন করার সুযোগও ছিল। কয়েকজন সেই কাজটা করে নিজের মনের চাওয়া পূরণ করে নিয়েছেন। কোচ ডমিঙ্গোও কার্স্টেনের কাছ থেকে জেনে নিলেন যে বিশ্বজয়ী কোচ যদি এখন বাংলাদেশ দলের কোচ থাকতেন তাহলে তার কৌশল কী হতো? কী পরিকল্পনায় এগুতেন। বিশেষ করে করোনাভাইরাস মহামারী যখন প্রায় ৫ মাসের মতো গোটা ক্রিকেট দলকে মাঠের বাইরে রেখে দিয়েছে। ডমিঙ্গোর প্রশ্নের জবাবে কার্স্টেন যা বললেন তাও একরকম দিকনির্দেশক। যা ডমিঙ্গো ও তার কোচিং দলের সঙ্গে জাতীয় ক্রিকেটারদের জন্যও মনে রাখার মতো হয়ে রইল।
কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর সঙ্গে এই ভার্চুয়াল মিটিংয়ে কোচিং স্টাফ দলের যারা ছিলেন তাদেরও কমবেশি অংশগ্রহণ ছিল। ফিজিও জুলিয়াস কালেফাতো, ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক, ট্রেনার ট্রেভর লি, ভিডিও অ্যানালিস্ট শ্রীনিবাস চন্দ্রশেখরন ছিলেন। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স ম্যানেজার সাব্বির খানও ছিলেন। ক্রিকেটারদের মধ্যে তিন অধিনায়ক তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুমিনুল হক তো ছিলেনই। আরও ছিলেন মুশফিকুর রহিম, শফিউল ইসলাম, নাঈম হাসান, ইয়াসির আলি রাব্বি, সাইফ হাসান, এনামুল হক বিজয়, মেহেদী হাসান রানা, তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ মিঠুন, রুবেল হোসেন, ইরফান শুক্কুর, ইমরুল কায়েস, নাজমুল হোসেন শান্ত, ইবাদত হোসেন, সাঞ্জামুল ইসলাম, সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার, মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, আফিফ হোসেন ধ্রুব, নাঈম শেখ, লিটন কুমার দাস, হাসান মাহমুদরা।
প্রসঙ্গত, কভিড-১৯ এর কারণে গত মার্চ থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ঘরে বন্দি। শেষ তারা খেলেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে। এরপর ফিটনেস ধরে রাখতে ঘরে বসেই প্রায় চার মাস প্র্যাকটিস করতে হয়েছে। ঈদের আগে গেল মাসের তৃতীয় সপ্তাহে কয়েকদিনের জন্য বিভিন্ন ভেন্যুতে একক অনুশীলন করেছেন কয়েকজন ক্রিকেটার। শনিবার থেকে আবার একক অনুশীলন শুরু হচ্ছে। যেখানে আগের চেয়ে অংশ নেওয়া ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। এরপর আগামী অক্টোবরে শ্রীলঙ্কা সফর দিয়ে দলকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরানোর পরিকল্পনা বিসিবির। আর দেশের ক্রিকেট শুরু হতে পারে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেট দিয়ে।