চা স্টলে বসা নিয়ে সংঘর্ষ পুলিশ-নারীসহ আহত ২৫

নেত্রকোনার মদনে চায়ের স্টলে বসাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ-নারীসহ ২৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দুুপুরে উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের পাছআলমশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে দুপক্ষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের ময়মনসিংহ  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

গত সোমবার সন্ধ্যায় নায়েকপুরের জনতা বাজারে চান মিয়ার চায়ের দোকানে বেঞ্চে বসা নিয়ে বাজার কমিটির সভাপতি আজিজুলের সঙ্গে চান মিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় দুপক্ষ।

নায়েকপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান রোমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আবার সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকার অনেকে তাদের গরুসহ জিনিসপত্র নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে।

আহতদের মধ্যে আবুল কাশেম, আবু বক্কর, আহাদ, মিলন, জজ মিয়া, ফয়সালসহ ছয়জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ছাড়া এসআই বিপ্লব, শাহ আলম, সিরাজুল, মোস্তাকিম, রতন, তারা মিয়া, জীবন মিয়া, লিটন, বাদল, মাইশারা আক্তার ও ফাতেমা আক্তারকে মদন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩ আগস্ট সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের জনতা বাজারে চান মিয়ার চায়ের দোকানে বেঞ্চে বসা নিয়ে বাজার কমিটির সভাপতি আজিজুলের সঙ্গে চান মিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে পাছআলমশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তায় ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক রিপন গ্রুপ ও মুক্তিযোদ্ধা নামিজমুদ্দিনের গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জড়ো হতে থাকে। পরে জুমার নামাজের আগে দুই গ্রুপে ঘণ্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এদিকে খবর পেয়ে মদন থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে গেলে তারাও আহত হন। এ সময় পাছআলমশ্রী গ্রামের ইউপি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিন ইয়ার ডালিমসহ শাহ আলম, মোবারক তালুকদার, মো. হেলিমকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

খালিয়াজুড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল উদ্দিন জানান, বেঞ্চে বসা নিয়েই মূলত দুপক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য, এসআই বিপ্লবসহ ২০-২৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চারজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। এ ব্যাপারে কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি বলে তিনি জানান।