জনসংখ্যার অনুপাতে বর্তমানে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও বেশি করোনা রোগী রয়েছে বাংলাদেশে। করোনা রোগীর মোট সংখ্যায় ভারত ও পাকিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও দেশ দুটি থেকে জনসংখ্যা কম হওয়ায় সংক্রমণের হারে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এমনকি জনসংখ্যা অনুপাতে দক্ষিণ এশিয়াতে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি সংক্রমণ রয়েছে কেবল মালদ্বীপে। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস নিয়ে কাজ করা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার্সে গতকাল শনিবারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি ৬৪৬ জনের মধ্যে একজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যেখানে ভারতে প্রতি ৬৬০ জনে একজন এবং পাকিস্তানে প্রতি ৭৮১ জনে একজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ মালদ্বীপের সাড়ে ৫ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৪ হাজার ৭৬৯ জনই করোনা রোগী। দেশটিতে প্রতি ১১৪ জনের মধ্যে একজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া শ্রীলঙ্কায় প্রতি ৭ হাজার ৫৪৬ জনে, ভুটানে প্রতি ৭ হাজার ১৫২ জনে এবং নেপালে প্রতি ১ হাজার ৩১৪ জনে একজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
নমুনা পরীক্ষার দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নিচে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রতি ১৩২ জনে একজনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। যেখানে ভারতে প্রতি ৫৯ জনে এবং পাকিস্তানে প্রতি ১০৫ জনে একজনের পরীক্ষা হয়েছে। এছাড়া মালদ্বীপে প্রতি ৬ জনে, ভুটানে প্রতি ১৪ জনে, নেপালে প্রতি ৩৯ জনে ও শ্রীলঙ্কায় প্রতি ১২৮ জনে একজনের পরীক্ষা হয়েছে। তবে মৃত্যুর দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। জনসংখ্যার অনুপাতে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি মালদ্বীপে। দ্বিতীয় অবস্থানে ভারত, তৃতীয় পাকিস্তান, চতুর্থ বাংলাদেশ, পঞ্চম শ্রীলঙ্কা, ষষ্ঠ নেপাল এবং ভুটানে কেউই মারা যায়নি।
এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও ২ হাজার ৬১১ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৩২ জন রোগী। গতকাল দেশে করোনা শনাক্তের ১৫৪তম দিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১১ হাজার ৫২৯টি। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয়েছে ১১ হাজার ৭৩৭টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ২ হাজার ৬১১ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এ দিন শনাক্তের হার ছিল ২২ দশমিক ২৫ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৩২ জন এবং হাসপাতাল ও বাসা মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ২০ জন।
বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গতকাল পর্যন্ত সর্বমোট ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬০টি নমুনা পরীক্ষায় ২ লাখ ৫৫ হাজার ১১৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। গড় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪২ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ হাজার ৩৬৫ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬০৪ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ ও সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
ডা. নাসিমা জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২৫ ও নারী ৭ জন। সর্বোচ্চ ১৬ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে খুলনায় ৫ জন, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ৪ জন করে, সিলেটে ২ জন ও বরিশালে ১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৩১ এবং বাড়িতে ১ জন। মৃতদের মধ্যে ২১-৩০ বছরের ১, ৪১-৫০ বছরের ৪, ৫১-৬০ বছরের ১২ এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সী ১৫ জন।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৬৫৫ জন এবং নারী ৭১০ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৮ দশমিক ৯০ শতাংশ ও নারী ২১ দশমিক ১০ শতাংশ। আর বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬১৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ৭৯৮ জন, খুলনায় ২৫২ জন, রাজশাহীতে ২০৯ জন, সিলেটে ১৫৮ জন, বরিশাল ও রংপুরে ১৩২ জন করে এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ৭১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।
বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৮৬৪ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৯ হাজার ২৫ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ১৮৪ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫২ হাজার ৯৪২ জন। হটলাইনগুলোতে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ৬৫ হাজার ৯২০টি। এ সময়ের মধ্যে টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করেছেন ৪ হাজার ১১ জন। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ১ হাজার ৮১৮ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।
কভিড হাসপাতালে খালি বেড ও আইসিইউর তথ্য : বুলেটিনে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর কভিড হাসপাতালগুলোতে ৭ হাজার ৩২টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৪ হাজার ৯২০টি ও ৩০১টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১০৮টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৭৮২টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫৪৭টি ও ৩৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ২৩টি। এর বাইরে দেশের অন্যান্য কভিড হাসপাতালে ৭ হাজার ৪৩৪টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫ হাজার ৭৩৭টি ও ১৯৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১০২টি।