সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর সঙ্গে ‘অবসাদ’কে জুড়ে দেওয়ায় প্রতিবাদ করেছিলেন এক সময়ের প্রেমিকা অঙ্কিতা লোখন্ডে। এবার মাঠে নেমেছে শিবসেনা। দলটির মুখপাত্রের দাবি, বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না সুশান্তর। যার জেরে অবসাদে ভুগতেন অভিনেতা।
সপ্তাহ খানেক আগে সুশান্তর বাবা কে কে সিং-এর দায়ের করা এফআইআর ঘিরে সম্প্রতি মুম্বাই এসেছে বিহার পুলিশ। এ নিয়ে দুই অঞ্চলের পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে চলছে দড়ি টানাটানি। এর ছাপ পড়েছে রাজনীতিতে। এবার শিবসেনার মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত সেই বিতর্কে খানিকটা ঘি ঢাললেন।
বিহার পুলিশ মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এমন অভিযোগ তো আছেই তার সঙ্গে তোপ দেগেছেন বিহারের ডিজিপি গুপ্তেশ্বর পাণ্ডের দিকেও। বিহারের ডিজিপি একজন বিজেপি সমর্থকের মতো কাজ করছেন বলে দাবি সঞ্জয়ের।
আরও বলেন, সুশান্ত ও কে কে সিং-এর মধ্যে সম্পর্ক একদমই ভালো ছিল না। মায়ের মৃত্যুর পর বাবার আবার বিয়ে মেনে নিতে পারেননি অভিনেতা। যে কারণে পিতা-পুত্রের আবেগটা তাদের সম্পর্কের মধ্যে ছিল না। সুশান্তও পাটনার বাড়িতে খুব কম যেতেন।
সুশান্তর মৃত্যু তদন্তের হলফনামা তৈরি করেছে মুম্বাই পুলিশ, যা খুব শিগগিরই জমা পড়বে সুপ্রিম কোর্টে। বিহার পুলিশ তদন্তে নেমেই সিবিআই চাইছিল। এভাবে তারা মহারাষ্ট্র সরকারের তদন্তে বাধার সৃষ্টি করলো এবং একটা রাজ্যকে অপমান করেছে বলে দাবি শিবসেনা মুখপাত্রের। আরও বলেন, সিবিআই-যে সব সময় সত্যি কথা বলে এমনটা নয়।
সঞ্জয়ের কথায়, বিহারের ডিজিপি আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি থেকে টিকিট পেতে চান। যে কারণে ২০০৯ সালে রাজনীতিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু সেই সময় রাজনীতির চাল বুঝতে ভুল হওয়ায় গুপ্তেশ্বর পাণ্ডে হালে পানি পাননি। তাই আবার নিজের পেশায় ফিরে যান এবং এবার তিনি নতুনভাবে ছক সাজাচ্ছেন। সামনেই ভোট। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতেই প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনি।
সুশান্তর চর্চিত প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তী ও তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরে কেকে সিং বলেন, তার ছেলেকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়েছেন রিয়া এবং সেই সঙ্গে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তুলে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। তদন্তের দায়ভার পেয়েই মুম্বাইয়ে যায় চার তদন্তকারীর একটি দল। সেখানে তারা সুশান্ত ঘনিষ্ঠ কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।
এ দিকে আর্থিক দুর্নীতির মামলায় দ্বিতীয়বারের মতো সোমবার মুম্বাইয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (ইডি) অফিসে হাজিরা দিলেন অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যরা।