মাত্র চার মাসেই ফরিদপুরে কভিড-১৯ ( করোনাভাইরাস) আক্রান্ত রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৫৩ ব্যক্তি।
ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১৩ জন। এ উপজেলায় রোগী শনাক্তের সংখ্য ৫২০, ফরিদপুর সদর উপজেলায় মারা গেছে ২৩ জন, শনাক্তের সংখ্যা ২ হাজার ৯৮৬।
সদরপুর উপজেলায় মারা গেছেন ৭ ব্যক্তি, রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৬৪। বোয়ালমারী উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬ জন, রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৪৭১ জন। চরভদ্রাসন উপজেলায় মারা গেছেন একজন, শনাক্ত হয়েছে ২০১, মধুখালীতে মারা গেছেন একজন, শনাক্তের সংখ্যা ৩০৭, আলফাডাঙ্গায় মারা গেছে একজন, শনাক্ত হয়েছে ১৬৮, সালথায় মারা গেছেন একজন, রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১৯ এবং নগরকান্দায় কোনো রোগী মারা যায়নি তবে শনাক্তের সংখ্যা ৩১৪জন।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. ছিদ্দীকুর রহমান জানান, এ জেলায় করোনা রোগী প্রথম শনাক্ত হয় ১৩ এপ্রিল।
তিনি বলেন, করোনার মহামারি সময়ে প্রথম দুই মাস বেশ ভালো কন্ট্রোলে ছিল, এরপর রোজার ঈদের পরেই সেটি অতিরিক্ত হারে শনাক্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৩৫০। করোনার এই সময়ে আক্রান্ত হয়ে জেলায় মারা গেছেন ৫৩ জন।
সরকারি এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও জানান, এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৮৮৪ জন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪৪০ জন।
ফরিদপুরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইফুর ইসলাম জানান, কলেজের একটি পিসিআর ল্যাবে ২০ হাজার ১৫৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ৪৪৫টি নমুনা পরীক্ষা পেন্ডিং রয়েছে। করোনা শনাক্ত রোগী সংখ্যা ৫৩৫০।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আমরা জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত করোনা মোকাবেলায় বিশেষ কমিটি গঠন করেছি। আমাদের আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলেও সুস্থের সংখ্যাও কম নয়।
তিনি বলেন, সকলের সহযোগিতায় দ্রুতই এই মহামারি থেকে মুক্ত হতে পারবো।