করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদসহ বহুমাত্রিক জালিয়াতিতে আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। গতকাল সোমবার দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কেএম ইমরুল কায়েস এ আদেশ দেন। এর আগে সাহেদকে আদালতে হাজির করে দুদকের পক্ষ থেকে ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়।
পদ্মা ব্যাংক (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক) থেকে ২ কোটি টাকা ঋণ নিতে ৩৫ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন সাহেদ। ব্যাংকটির অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী ও তার ছেলে রাশেদুল হক চিশতীকে ওই ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে মামলা করার পর সাহেদকে রিমান্ডে নিল দুদক।
রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল আদালতকে বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালে এমআরআই মেশিন কেনার কথা বলে সাহেদ পদ্মা ব্যাংক থেকে ২ কোটি টাকা ঋণ নেন। অথচ তিনি মেশিন কেনেননি। এমনকি তিনি মেডিকেল যন্ত্রপাতি কেনার কোনো প্রমাণ দাখিল করেননি। মামলার এজাহারে বলা আছে, এ ঋণ পেতে আসামি সাহেদ ৩৫ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন এবং ঋণের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তাই এ ঘটনার সঙ্গে এবং ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে কী অনিয়ম করেছেন আসামিরা এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানার জন্য এ আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর বিশেষ জজ কেএম ইমরুল কায়েস সাহেদকে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। শুনানির শুরুতে বিচারক সাহেদের কাছে জানতে চান, তার আইনজীবী আছে কি না। এ সময় সাহেদ আদালতকে জানান, তার কোনো আইনজীবী নেই। তখন সাহেদ নিজেই রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘আমি ২০ দিনের রিমান্ডে ছিলাম। আরও ২৭ দিনের রিমান্ড বাকি আছে। আমি খুবই অসুস্থ, আমার শরীর কতটা খারাপ বলে বোঝাতে পারব না। এখন আপনি বিবেচনা করবেন।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ গত ৬ আগস্ট সাহেদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। নিয়মানুযায়ী ওইদিন রিমান্ড শুনানির জন্য ১০ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।
গত ২৭ জুলাই মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ বাদী হয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ সাহেদসহ চারজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইব্রাহিম খলিল, পদ্মা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী/অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী এবং তার ছেলে বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক চিশতী।