সাংবাদিকদের শিপ্রা-সিফাত

যা সত্য, যা ঘটেছে সবই জানাব

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের সঙ্গে তথ্যচিত্র নির্মাণে যুক্ত থাকা শিপ্রা দেবনাথ ও সাহেদুল ইসলাম সিফাত ভালো আছেন। গতকাল সোমবার রাতে কক্সবাজারে সাংবাদিকদের এ কথা জানান স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দুই শিক্ষার্থী।

সাংবাদিকদের তারা বলেন, মেজর সিনহা (অব.) নিহত হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে তারা যা কিছু জানেন তার সবই দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবেন। তবে এজন্য তারা কিছুটা সময় চেয়েছেন। এ ঘটনায় বিভ্রান্তিকর খবর না ছড়ানোর অনুরোধ করে শিপ্রা বলেন, ‘যা সত্য, যা ঘটেছে তার সবই আমরা বলব, তবে এজন্য একটু সময় দিতে হবে।’

অন্যদিকে সিফাত বলেন, তার পায়ে গুলি লাগার তথ্যটি সঠিক নয়। তিনি জানান, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর পরিবারের ভাড়া করা গাড়িতে করে তিনি আদালত চত্বর ত্যাগ করেন।

এই দুই শিক্ষার্থী জানান, ঘটনার পরপর বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তারা ট্রমাটাইজড। মেজর সিনহার (অব.) মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচার পাবেন বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন। তাদের গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হওয়ার ঘটনায় আপ্লুত হয়েছেন জানিয়ে শিপ্রা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

কক্সবাজারের রামু থানায় পুলিশের দায়ের করা মাদক মামলায় গত রবিবার জামিন পেয়েছেন শিপ্রা দেবনাথ। অন্যদিকে গতকাল দুপুর সোয়া ২টার দিকে কক্সবাজারের আদালত আলাদা দুটি মামলায় জামিন মঞ্জুরের পর সিফাত কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন।

স্ট্যামফোর্ডের শিক্ষার্থী সিফাত, শিপ্রা দেবনাথ ও তাহসিন রিফাত নূর ‘জাস্ট গো’ নামে একটি ভ্রমণের ভিডিওচিত্র ধারণ করতে কক্সবাজারে ছিলেন। নিহত মেজর (অব.) সিনহার ইউটিউব চ্যানেলের জন্য তারা এটি নির্মাণ করছিলেন।

জামিনে মুক্ত সিফাত : স্ট্যামফোর্ড বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। গতকাল দুপুর ২টায় তিনি কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান। এর আগে বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক তামান্না ফারাহ সিফাতের জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে বিবাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিনহা নিহতের ঘটনায় এবং তার গাড়ি থেকে মাদক উদ্ধারের অভিযোগে পুলিশের দায়ের করা মামলা দুটি তদন্তের ভার র‌্যাবকে দিয়েছে আদালত।