জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার নষ্টকে কেন্দ্র করে এক ইউপি সদস্য ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে রাস্তা বন্ধ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের সহায়তায় রাস্তার বেড়া অপসারণ করা হয়।
এ ঘটনায় মোবাইলে ভিডিও করায় ওই ইউপি সদস্য ও তার পরিবারের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষানবিশ এক নারী আইনজীবির মোবাইল কেড়ে নিয়ে মারধর ও শ্লীলতাহানি করায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মোকলেছুর রহমান সহ ৩ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
সোমবার রাতে আক্কেলপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন ঢাকা বারের শিক্ষানবিশ আইনজীবি তাসনিয়া জাহিন সুমি। তবে আসামী প্রকাশ্যে ঘোরায় শঙ্কার মধ্যে আছেন মামলার বাদী ও তার পরিবার।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের পুনঘরদিঘী গ্রামের বিদ্যুৎ সংযোগের ট্যান্সর্ফমার নষ্ট হয়। এতে ওই গ্রামে তিনদিন বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোকলেছুর রহমান ওই গ্রামে বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার ঠিক করে দেওয়ার কথা বলে গ্রামবাসীদের নিকট টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করার চেষ্টা করে। বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীসহ তাসনিয়া জাহিন সুমি প্রতিবাদ করে। এতে ওই মেম্বার ক্ষিপ্ত হয়ে তার ছেলে শাহীন হোসেনকে নিয়ে গত ৭ আগস্ট সকালে গ্রামের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এতে গ্রামবাসীদের চলাচলে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হওয়ায় পুলিশকে ঘটনাটি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মেম্বার মোকলেছুর রহমানকে রাস্তার বেড়া অপসারণ করতে বলেন। রাস্তার বেড়া অপসারণ করার জন্য ক্ষীপ্ত হয়ে ওই মেম্বার, তার ছেলে ও পুত্রবধূ, তাসনিয়া জাহিন সুমিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ডান হাতে আঘাত করে ও জোরপূর্বক মোবাইল কেড়ে নেয় এবং তার শ্লীলতাহানি করে। তাৎক্ষণিক ওই মেম্বারের নের্তৃত্বে আরো কয়েকজন লাঠি, বাঁশ, রড দিয়ে তাকে মারতে আসলে গ্রাসবাসীর সহায়তায় রক্ষা হয়। এ ঘটনায় গত সোমবার রাতে তাসনিয়া জাহিন সুমি বাদী হয়ে ইউপি মেম্বার মোকলেছুর রহমান, তার ছেলে শাহীন ও পুত্রবধূ সীমা সহ আরো অজ্ঞাত ১০/১৫ জনকে আসামী করে মামলা করেন।
মামলার বাদী তাসনিয়া জাহিন সুমি মঙ্গলবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি ঢাকায় পড়াশোনা করি। গ্রামে ছুটিতে এসে বিদ্যুতে ট্রান্সফর্মার নষ্ট হওয়ার ঘটনায় ইউপি মেম্বার ঠিক করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন জনের নিকট টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছিল। এর প্রতিবাদ করায় এসব ঘটনা ঘটে। আমি থানায় মামলা করেছি। এখন পর্যন্ত আসামীরা প্রকাশ্যেই ঘুরছে। তারা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমি ও আমার পরিবার শঙ্কার মধ্যে আছি।
অভিযুক্ত তিলকপুর ইউপি সদস্য মোকলেছুর রহমান বলেন, আমি ও আমার পরিবারের লোকজন রাস্তা বন্ধ করি নাই। তবে পুলিশ আসার পর রাস্তার বেড়া সরিয়ে দিতে বললে আমি তা সরিয়ে দেই। ট্রান্সফর্মার ঠিক করার ব্যাপারে টাকা নেওয়ার চেষ্টার ঘটনা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সত্য নয়।
তিলকপুর ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম মাহবুব সজল দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিদ্যুতের ঘটনাকে কেন্দ্র এলাকার রাস্তা যুবক ছেলেরা বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে বেড়া সরিয়ে নেয়। পরে শুনেছি ওই এলাকার ঢাকাতে পড়াশোনা করা সুমি ওসব বেড়া দেওয়ার ছবি উঠাচ্ছিল। তখন মেম্বারের ছেলে তার মোবাইল কেড়ে নেয় এবং পরে দিয়ে দেয়। তার একদিন পর শুনছি মেয়েটি থানায় অভিযোগ করেছে।
আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ খাঁন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।