সংসদ অধিবেশনকক্ষে জাতির পিতার প্রতিকৃতি প্রদর্শন চেয়ে রিট

জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদনটি করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সংসদ সচিবের উদ্দেশে গত ৩০ জুলাই একটি নোটিস পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় হাইকোর্টে আবেদনটি করা হয়েছে। আবেদনে আইন সচিব ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। কার্যতালিকায় এলে বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের ভার্চুয়াল বেঞ্চে আবেদনটির ওপর শুনানি হবে।

অ্যাডভোকেট সুবীর নন্দী দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জাতীয় সংসদের লেজিসলেটিভ কার্যালয় যেটি অধিবেশন কক্ষ হিসেবে পরিচিত, সেখানে জাতির পিতার প্রতিকৃতি থাকতে হবে। কেননা জাতীয় সংসদ দেশের সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। সংবিধান অনুযায়ী সবার আগে সেখানেই জাতির পিতার প্রতিকৃতি থাকা উচিত। এসব বিবেচনায় এ আবেদনটি করা হয়েছে।’

তিনি জানান, সংবিধানের ৪(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয়সহ সব সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্র্তৃপক্ষের শাখা ও প্রধান কার্যালয়, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদেশে বাংলাদেশের সব দূতাবাস ও মিশনে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করতে হয়।

রিটকারী আইনজীবী আরও বলেন, জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয় একটি সরকারি অফিস। তাই জাতীয় সংসদের অধিবেশন হলে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণ সাংবিধানিক দায়িত্ব। ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশের আইনসভাতেই তাদের নিজ নিজ জাতির পিতা বা জাতীয় বীরদের প্রতিকৃতি বা ভাস্কর্য রয়েছে।

এর আগে গত বছর ২৯ আগস্ট বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ আইনজীবী সুবীর নন্দী দাসের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের প্রতিটি আদালত কক্ষ বা এজলাসে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়, যা ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।