সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে কানাডায় একটি খুনি দল পাঠানোর অভিযোগ করেছেন সৌদি আরবের সাবেক এক উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তা। খুনি দলটির লক্ষ্যবস্তু ছিলেন অভিযোগকারী নিজেই। তবে শেষ পর্যন্ত কানাডায় প্রবেশে ব্যর্থ হয় দলটি। সিএনএন অবলম্বনে লিখেছেন পরাগ মাঝি
মার্কিন আদালতে অভিযোগ
বলা হচ্ছে, তুরস্কের সৌদি দূতাবাসে জামাল খাসোগিকে হত্যার কয়েক দিনের মধ্যেই আরও একটি হত্যাকাণ্ডের জন্য কানাডায় পা রেখেছিল সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের মদদপুষ্ট একটি খুনি দল। গত ৬ আগস্ট একটি মার্কিন আদালতে এই অভিযোগ করেছেন সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ডক্টর সাদ আলজাবরি। তিনি দাবি করেন তাকে হত্যা করার জন্যই ১৫ জনের ওই খুনি দলকে কানাডায় পাঠানো হয়েছিল।
অভিযোগে আলজাবরি জানান, সৌদি আরব থেকে পালিয়ে আসার বছরখানেকের মধ্যেই তাকে হত্যা করার জন্য খুনি দলটিকে পাঠিয়েছিলেন এমবিএস নামে পরিচিত সৌদি রাজতন্ত্রের ক্ষমতাধর ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। এর আগে তাকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন যুবরাজ। চেষ্টা ছিল দেশে না হলেও এমন কোনো স্থানে যেন আলজাবরিকে নিয়ে যাওয়া যায়, যেখানে সৌদি রাজতন্ত্রের প্রভাব আছে। অভিযোগে আরও বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন সাবেক ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা। এর মধ্যে অন্তত দুজনের নাম তিনি উল্লেখ করেছেন, যারা খাসোগি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ আছে।
কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের বর্ণনা দিয়ে অভিযোগনামায় আলজাবরি দাবি করেন, তাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশে ফিরে যাওয়ার তাগাদা দিয়ে ওই মেসেজগুলো সৌদি যুবরাজ নিজেই পাঠিয়েছিলেন। তবে সেসব আহ্বানে সাড়া না দেওয়ার জন্য হুমকির মাত্রাও বাড়াতে থাকেন যুবরাজ এবং বলেন, ‘আপনাকে দেশে ফেরানোর জন্য সম্ভাব্য সব উপায় ব্যবহার করা হবে।’ একটি খুদে বার্তায় তিনি আরও বলেন, ‘এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যেগুলো আপনার জন্য বিপদ ডেকে আনবে।’ এ সময় আলজাবরির ছয় সন্তানের মধ্যে সৌদি আরবে থেকে যাওয়া দুই সন্তানের ওপর দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং তাদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিএনএন থেকে যোগাযোগ করা হলেও সৌদি সরকার, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত সৌদি দূতাবাস ও মোহাম্মদ বিন সালমানের অলাভজনক ফাউন্ডেশন থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সৌদি যুবরাজ আসলেই কোনো বৈরী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন কি না তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আলজাবরিকে হত্যার মিশন নিয়ে সৌদি আরবের বিশেষ দলটি কানাডার মাটিতে পা রেখেছিল অন্তত নয় মাস আগে। তারও আগে আলজাবরির আরেক ছেলে খালিদকে সতর্ক করে মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের এজেন্টরা জানিয়েছিল, তার বাবা ও তার পরিবারের সদস্যদের জীবন হুমকির মুখে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন খালিদ। বোস্টনের লগান বিমানবন্দর থেকে পাহারা দিয়ে তাকে দুজন এফবিআই এজেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। খালিদকে আরও জানানো হয় যুক্তরাষ্ট্রে আলজাবরি ও তার পরিবারের সদস্যদের হন্যে হয়ে খুঁজছে মোহাম্মদ বিন সালমানের লোকরা। যদিও সেই সময়টিতে কানাডায় আত্মগোপন করে ছিলেন আলজাবরি।
আলজাবরি কেন গুরুত্বপূর্ণ
সৌদি আরবের বর্তমান রাজতন্ত্রে মসনদের লড়াইয়ে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রধানতম প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন তার বড় ও চাচাতো ভাই মোহাম্মদ বিন নায়েফ। আলজাবরি ছিলেন মোহাম্মদ বিন নায়েফের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম। সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে কয়েক বছর ধরে তারা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে একনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। বিশেষ করে, নাইন-ইলেভেন হামলার পর আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখেন আলজাবরি। প্রতিশ্রুতি রক্ষার মনোভাব এবং জ্ঞানের গভীরতা দিয়ে তিনি মার্কিন গোয়েন্দাদের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছিলেন।
২০১৭ সালে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের শিকার হন মোহাম্মদ বিন নায়েফ। তাকে ক্রাউন প্রিন্সের পথ থেকে পদচ্যুত করে নিজের ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানকে এই পদে বসান সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। অর্থাৎ সবকিছু ঠিক থাকলে সালমান বিন আবদুল আজিজের পর সৌদি বাদশাহর আসনে বসবেন মোহাম্মদ বিন সালমান। ক্রাউন প্রিন্স বা যুবরাজের পদ থেকে পদচ্যুত করার পর মোহাম্মদ বিন নায়েফকে গৃহবন্দি করা হয়। আলজাবরিকে বলা হতো নায়েফের ডান হাত। স্বাভাবিকভাবেই তিনি বুঝতে পারেন বিপদ আসন্ন। ২০১৭ সালের মাঝামাঝিতে তিনি সৌদি আরব থেকে পালিয়ে তুরস্কে চলে যান। এ সময় ছয় সন্তানের মধ্যে সারাহ ও ওমর নামে তার দুই ছেলেমেয়েকে সৌদি আরবে রেখেই পালাতে হয় তাকে।
মধ্যপ্রাচ্যে সিআইএর সিনিয়র অপারেশন অফিসার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার পর ২০১৯ সালে অবসর নেওয়া ডগলাস লন্ডন যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘আলজাবরির মৃত্যুর চেয়ে তার বিস্তৃত জ্ঞান বেশি দরকার মোহাম্মদ বিন সালমানের। তাই সৌদি আরবের যে দলটিকে কানাডায় পাঠানো হয়, খুব সম্ভবত তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কীভাবে আলজাবরিকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া যায় তা খতিয়ে দেখা। আর এটি সম্ভব না হলে তাকে হত্যা করা।’
ডগলাস লন্ডন মনে করেন, সৌদি রাজতন্ত্রে এর আগে মৃত্যুবরণ করা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি থেকে শুরু করে বর্তমানে যারা শাসনক্ষমতায় রয়েছেন এবং ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতার দাবিদার, তাদের সবার সম্পর্কেই গভীর জ্ঞান রয়েছে আলজাবরির। তার এই জ্ঞান যেন নিজের পথে কাঁটা না হয়, সেই প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে আলজাবরিকে হত্যা করতে চাওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে না দিলেও ডগলাসের ধারণা, কানাডায় পাঠানো দলটির সাহায্যে মোহাম্মদ বিন সালমান আলজাবরিকে নজরদারির মধ্যে রাখতে চেয়েছিলেন। তিনি কোথায় কীভাবে কার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং কী কী কাজ করছেন, সে সম্পর্কিত তথ্যগুলো যুবরাজের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
‘টোপ’ দুই ছেলেমেয়ে
সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার কড়া সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান রাজনীতিবিদ টম মিলোনস্কিসহ নিউজার্সির একজন ডেমোক্র্যাট নেতা ও মার্কিন পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির এক সদস্য।
মেলিনোস্কি বলেন, ‘খুন, অপহরণ ও অত্যাচারের জন্য কুখ্যাত কোনো ব্যক্তি যদি আপনাকে হঠাৎ একটি খুদে বার্তা পাঠান, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আপনার জন্য অনেক খারাপ কিছু ঘটতে যাচ্ছে।’
সদ্য কৈশোর পাড়ি দেওয়া দুই ছেলেমেয়েকে দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর খুদে বার্তা আদান-প্রদানের একপর্যায়ে সন্তানদের দেশ ত্যাগে অনুমতি দেওয়ার জন্য যুবরাজের কাছে অনুরোধ করেছিলেন আলজাবরি। এর উত্তরে মোহাম্মদ বিন সালমান লিখেছিলেন, ‘যখন তুমি আমার সামনে আসবে তখন সবকিছুই তোমার সামনে খোলাসা করা হবে। আমি চাই তুমি কালই ফিরে আসো।’
ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সৌদি কর্র্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই আলজাবরির বিরুদ্ধে সরকারি ১২ বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ ও অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছে। শুধু তাই নয়, নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আলজাবরির বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করার পাশাপাশি তার গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের জন্য ইন্টারপোলের কাছে সাহায্য চেয়েছে। ইন্টারপোল অবশ্য সৌদি আরবের এই অনুরোধ ততটা আমলে নেয়নি। কারণ তারা বুঝতে পেরেছে যে, এই অনুরোধটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত।
অভিযোগনামায় আলজাবরির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে মার্চের মাঝামাঝিতে তার ২২ বছর বয়সী ছেলে ওমর ও ২০ বছর বয়সী মেয়ে সারাহকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারপর থেকে এখনো তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। একই মাসে ওই দুই ভাই-বোনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুবাইয়ের রাস্তা থেকে আলজাবরির এক আত্মীয়কে ছিনতাই করে সৌদি আরব নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে তার প্রশাসন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি করে। জানা যায়, খাসোগি হত্যাকাণ্ডের আগ পর্যন্ত ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জেরার্ড কুশনার ও মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ছিল।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মার্কো রুবিওসহ আরও কয়েকজন সিনেট সদস্য ট্রাম্পের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আলজাবরির সন্তানদের নিরাপত্তা বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ করে লেখেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, সৌদি সরকার আলজাবরিকে কানাডা থেকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য তার সন্তানদের টোপ হিসেবে ব্যবহার করছে।’ চিঠিতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আলজাবরির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেট সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর মার্কিন গোয়েন্দাদের একটি অংশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছিল যে, এই হত্যাকাণ্ড মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশেই ঘটেছে। সৌদি যুবরাজ এ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ত তার অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে খুনি দলটির অন্তত পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় সৌদি আদালত।
জামাল খাসোগিকে হত্যার মিশনে যে দলটি অংশগ্রহণ করেছিল, সিই দলটিকে টাইগার স্কোয়াড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আলজাবরি। তার অভিযোগ অনুযায়ী, টাইগার স্কোয়াডেরই অপর সদস্যরা কানাডায় আলজাবরিকে খুন করার জন্য গিয়েছিল। আর এই খুনি দলটিকে গঠন করা হয়েছে শুধু মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।
মিশন যেভাবে ব্যর্থ হলো
আলজাবরির অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর তুরস্কের সৌদি কনস্যুলেট জামাল খাসোগিকে হত্যা করার দুই সপ্তাহ পর কানাডার অটোয়া ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ১৫ জন সৌদি নাগরিক এসে উপস্থিত হয়। তাদের সবার কাছে টুরিস্ট ভিসা থাকলেও এই দলটিই ছিল সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কথিত খুনি দল। দুটি ব্যাগের ভেতরে করে তারা ফরেনসিক সরঞ্জাম বহন করছিল। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার স্থান থেকে প্রমাণ মুছে দিতে এ ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়।
বিমানবন্দরে কাস্টমস পাড়ি দেওয়ার সময় দলের সবাই একে অপরের কাছ থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিপত্তি বাধে তখনই যখন কানাডিয়ান কাস্টমসের এক কর্মকর্তা তাদের বলে বসেন, ‘আপনারা কি একে অপরকে চেনেন?’ এই প্রশ্নের জবাবে সৌদি নাগরিকরা জানায়, তারা কেউ কাউকে চেনে না।
দলটির সবাই যে একে অপরকে না চেনার ভান করছে, তার সুস্পষ্ট প্রমাণ ছিল কানাডিয়ান কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাছে। কারণ একটি ভিডিও স্ক্রিনিংয়ে তারা দেখতে পান কাস্টমসে প্রবেশের আগে বিমানবন্দরের একটি অংশে দলটির সবাই একসঙ্গে অবস্থান করছিল। মিথ্যা তথ্য দেওয়ার জন্য কানাডিয়ান কর্মকর্তাদের মধ্যে সন্দেহ দানা বেঁধে ওঠে। পরে সৌদি অ্যাম্বাসিকে বিষয়টি জানানোর পর সেখান থেকে একজন আইনজীবী আসেন। এ অবস্থায় ভ্রমণ ভিসায় আসা সৌদি নাগরিকদের দলটি আবার দেশে ফিরে যেতে রাজি হয়। আর ওই দলের একজনকে কানাডায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়, যার কাছে একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছিল।
আলজাবরি আরও উল্লেখ করেন, কানাডায় প্রবেশ করতে চাওয়া দলটিকে তত্ত্বাবধান করছিলেন সৌদ আল-কাহতানি। মার্কিন অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছিল, জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এই সৌদ আল-কাহতানি। আহমেদ আল-আসিরি নামে আরও একজনের নাম উল্লেখ করেন আলজাবরি। মোহাম্মদ বিন সালমানের খুব ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই আল-আসিরি। খাসোগি হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধেও। তবে তাদের কাউকেই ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি।
খুনি দলটির ব্যাপারে কানাডিয়ান কর্র্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কানাডায় যারা বসবাস করছে, তাদের ওপর বিদেশিরা যেন নজরদারি করতে ও হুমকি দিতে না পারে সেজন্য তারা সচেতন রয়েছেন।
আলজাবরি দাবি করেছেন, তাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য সৌদি যুবরাজ আমেরিকা ও কানাডায় চিরুনি অভিযান চালিয়েছিলেন। এই অভিযানে বড় ভূমিকা রাখে সৌদি যুবরাজের অলাভজনক ফাউন্ডেশন ‘মিস্ক’। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত বিজাদ আলহারবি নামে এক সৌদি গোয়েন্দা যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে আলজাবরির ছেলের কাছ থেকে তার কানাডায় অবস্থানের কথা জেনে গিয়েছিলেন।
টাইগার স্কোয়াডের হত্যাপ্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও আলজাবরি দাবি করছেন, তাকে প্রাণে মেরে ফেলতে বিকল্প পথ অনুসরণ করবেন সৌদি যুবরাজ। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্থলপথে কানাডার সীমান্ত অতিক্রম করতে পারে খুনিরা।