২৪ অক্টোবর থেকে শ্রীলঙ্কায় ১ম ম্যাচ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে শ্রীলঙ্কা সফরেই ক্রিকেটে ফেরাচ্ছে বিসিবি। গতকাল বিসিবির জরুরি বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত এসেছে। তিনটি করে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির সিরিজ খেলতে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা উড়ে যাওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর। জাতীয় দলের ক্যাম্প তার ১০/১২ দিন আগে শুরু হবে। শ্রীলঙ্কায় মাসখানেকের প্র্যাকটিস শেষে ২৪ অক্টোবর থেকে প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন, ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান ও ম্যানেজার সাব্বির খান, দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশার সুমন, হাইপারফরম্যান্স ইউনিটের প্রধান নাঈমুর রহমান দুর্জয়, প্রধান চিকিৎসক দেবাশীস চৌধুরী গতকাল বৈঠকে বসেছিলেন।

পরে আকরাম খান জানিয়েছেন, ‘কীভাবে আমরা ক্যাম্পটা শুরু করব সেটার ভালো একটা পরিকল্পনা করেছি।’ এ ব্যাপারে বিস্তারিত এখনই না জানালেও তিনি বলেছেন, ‘কতদিন দেশে প্র্যাকটিস করব, কতদিন শ্রীলঙ্কায় গিয়ে প্র্যাকটিস করব সেই সিদ্ধান্ত মোটামুটি নিয়েছি। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ১০-১২ দিন প্র্যাকটিস করে তারপর শ্রীলঙ্কায় যাব। সঙ্গে এইচপি টিম যাবে। সেখানে ২০-২৫ দিন একসঙ্গে প্র্যাকটিস হবে।’

করোনাভাইরাসে গোটা বিশ্ব আক্রান্ত হওয়ার পর এটাই হবে বাংলাদেশের কোনো সফর। এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলবে দল। 

শ্রীলঙ্কায় করোনা পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক। সেখানে লঙ্কান জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা লিগ ক্রিকেট খেলছেন। তবে বাংলাদেশ দলের সেখানে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা। আকরাম খান বিষয়টি নিশ্চিত করতে না পারলেও কলম্বোতেই দলের ঠিকানা হতে পারে বলে জানিয়ে রাখলেন, ‘আপাতত কলম্বোর কথাই ওরা আমাদের বলেছে। কলম্বোতে সুযোগ-সুবিধা বেশি। হাসপাতাল উন্নত মানের আছে।’

প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোসহ কোচিং স্টাফরা যার যার দেশে। জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরুর আগেই তাদের বাংলাদেশের নিয়ে আসার প্রসঙ্গে আকরাম জানালেন, ‘সেপ্টেম্বরের শুরুতে তাদের দেশে আনার চেষ্টা করব।’

আগস্ট থেকে বিসিবির ব্যবস্থাপনায় মিরপুরসহ দেশের ৫টি ভেন্যুতে একক অনুশীলন করছেন ক্রিকেটারা। ক্যাম্পের আগে পরে ২/৩ বার সবার করোনা টেস্ট করানো হবে বলে জানিয়েছেন আকরাম। তাদের হোটেলে রাখার পরিকল্পনাও করেছে বিসিবি।

গতকালের বৈঠকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছিল জুয়াড়ির সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য গোপন করে এক বছরের নিষেধাজ্ঞায় থাকা সাবেক অধিনায়ক সাকিবকে জাতীয় দলে ফেরানোর আলোচনা। ২৯ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া এই অলরাউন্ডারকে শ্রীলঙ্কা সফরে দলে যোগ করার প্রসঙ্গে আকরাম জানালেন, ‘অবশ্যই সেটা তো করব। কিন্তু ব্যাপার আছে প্র্যাকটিসের, ফিটনেসের। অবশ্যই সে বাংলাদেশের জন্য অন্যতম একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। ও দলে থাকলে বাংলাদেশের শক্তি অনেক বেড়ে যায়।’ আকরাম ব্যাখ্যা করে জানালেন, ‘যতদূর আমরা জানি (২৯ অক্টোবরের আগে) সাকিব টিমের সঙ্গে প্র্যাকটিস করতে পারবে না। সুতরাং, এ নিয়ে কোচ আর সাকিবের সঙ্গে আলাপ করতে হবে আমাদের। বোর্ড প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও আলাপ করতে হবে। এটা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে আমরা পৌঁছাইনি।’