প্রণোদনার ঋণে ন্যায্যতা চায় প্রতিযোগিতা কমিশন

অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ প্রদানে নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিতকরণে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে প্রতিযোগিতা কমিশন। সংস্থাটি বলছে, প্রণোদনার অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বৈশ্বিক সংস্থা আঙ্কটাড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগিতা কমিশন সরকারের প্রণোদনা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘প্রতিযোগিতা ন্যায্যতা আইন’ অনুসরণ করার সুপারিশ করেছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। এতে কোনো কোম্পানি, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকা- পরিলক্ষিত হলে তা চিহ্নিত করে প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা কমিশন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক সময়ে করোনায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনার অর্থ প্রদান নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। এটি সঠিকভাবে করা গেলে আবারও ঘুরে দাঁড়াবে দেশের অর্থনীতি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মো. মফিজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণে কারও বা কোনো গোষ্ঠীর যেন একচেটিয়া আধিপত্য না থাকে, সেটা নিশ্চিত করা জরুরি। বড় বড় শিল্প গ্রুপ হয়তো বেশি ঋণ পেতে পারে, কিন্তু সেটার যেন সামঞ্জস্যতা থাকে। যেন ন্যায্যতা নিশ্চিত হয়। তিনি বলেন, ঋণ প্রদানে নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে পারলে প্রণোদনা প্যাকেজের প্রকৃত সুফল মিলবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কীভাবে এই অর্থ ব্যাংকগুলো বিতরণ করছে, প্রতিযোগিতা আইন মানা হচ্ছে কি না, এসব বিষয়ে তথ্য চাওয়া হবে।

অর্থ সচিব বরাবর প্রেরিত এই চিঠিতে প্রতিযোগিতা কমিশন বলছে, যেসব দেশে প্রতিযোগিতা কমিশন কার্যকর, সেসব দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ২-৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ শুধু ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার কারণে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে।

প্রণোদনার বিষয়ে বলা হয়, এ বছর করোনা মহামারীর বিস্তার ও সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশ^কে নজিরবিহীন লকডাউনের সম্মুখীন হতে হয়েছে। যোগাযোগ স্থবিরতায় বিশ^ অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশেও এর চরম অভিঘাত লক্ষ করা গেছে। স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সব খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ লাখ কোটি টাকা প্রণোদনার ঘোষণা দেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা- পুনরুজ্জীবিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা সামগ্রী সম্প্রসারণ করা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক কর্মকা- চলমান রাখার জন্য এই অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পল্লী-কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, করোনার কারণে কমে গেছে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা সঠিক ব্যবহার করা গেলে এই জিডিপি প্রবৃদ্ধি আবারও কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত, যেন সঠিক ব্যক্তিরা এই সুবিধা পায়।

তিনি বলেন, এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা এখনো কোনো ঋণ পাচ্ছেন না। এত দিনে এ বিষয়ে কোনো মডিউলই তৈরি করা যায়নি। এভাবে চললে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা হারিয়ে যাবেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ পরিচালনা বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা আইন-২০১২ অনুযায়ী সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাবিরোধী কোনো কর্মকা- পরিলক্ষিত হলে তা চিহ্নিতকরণ ও প্রতিকারের বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের কাছ থেকে কারিগরি সহায়তা গ্রহণ করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত প্রণোদনার অর্থ বরাদ্দ বা ব্যয়ের প্রতিযোগিতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।