আনোয়ারায় জেলে পরিবারকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা

বিচার পাওয়ার আশায় সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও লোকজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার মধ্যম গহিরা জেলেপাড়ার অসহায় এক পরিবার। এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ওই জেলে পরিবারকে তাদের বসতভিটা ও সাগরে দখলীয় জাল ফেলার ফাঁড় থেকে উচ্ছেদ করার জন্য পাঁয়তারা করছে। এমনকি ওই জেলে পরিবারের সদস্যরা কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন।

এ ঘটনায় আদালতে মামলা করায় প্রতিপক্ষের হুমকি-ধমকিতে এলাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না ওই জেলে পরিবার। তাদের বসত-ভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত ওই জেলে পরিবারের ১৩টি জালের ফাঁড় জোর করে দখলে নিয়েছে প্রভাবশালীরা। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ওই জেলে পরিবারের সদস্য হেমন্ত জলদাশ। ঘটনা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মধ্যম গহিরা গ্রামের বাচা মিয়া মাঝির ঘাটের।

ভুক্তভোগী হেমন্ত জলদাশ বলেন, ২০১৫ সাল থেকে বসত-ভিটা নিয়ে প্রতিপক্ষ আবদুর রহিমের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। কিন্তু আদালতের রায়ে ওই জায়গা আমার ভোগ-দখলীয় আছে। এর জের ধরে বেশ কয়েকবার আমার ও পরিবারের লোকজনের ওপর নির্যাতন চালায় প্রতিপক্ষ। এ ঘটনায় আদালতে মামলাও হয়। এরপর থেকে তাদের দৃষ্টি পড়ে আমার দখলীয় সাগরে জাল ফেলার ফাঁড়ের ওপর। এজন্য স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে নিয়ে তারা দলবদ্ধ হয়। একপর্যায়ে বনমালি জলদাশ নামে আমার এক শ্রমিককে লোভ দেখিয়ে তারা হাতে নেয়। ওই বনমালিকে মালিক সাজিয়ে গত বছরের ৭ আগস্ট স্থানীয় আবদুর রহিম, জসিম উদ্দিন, মহিউদ্দিনসহ প্রভাবশালী চক্র হামলা চালিয়ে ফিশিং ট্রলার ও জালসহ মাছ ধরার উপকরণ লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৫ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা হয়। লুটকৃত ফিশিং ট্রলারসহ এসব মালামাল জসিমের বাড়িতে ছিল। এক বছর পর আদালত গত ১২ মে ট্রলারসহ লুটকৃত মালামাল উদ্ধারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ মধ্যম গহিরার বাসিন্দা জসিমের বাড়ি থেকে ট্রলারসহ মাছ ধরার উপকরণ সামগ্রী উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়। কিন্তু জোরপূর্বক দখলে নেওয়া সাগরে জাল ফেলার ফাঁড়গুলো ওই প্রভাবশালী চক্রের দখলে রেখেছে। অভিযোগ অস্বীকার করে জসিম উদ্দিন বলেন, সাগরে দখলীয় জালের ফাঁড়গুলো বনমালির দখলে। এখানে আমাদের কিছু নেই। তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসা করতে গেলে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে।

বনমালি জলদাশ বলেন, ফাঁড়গুলো আমার দখলীয়, তাই আমি জাল বসাই। ফাঁড় অন্যত্র ভাড়া দিয়ে ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে কী না এমন প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান।

রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানে আলম বলেন, ফাঁড়গুলো বনমালির দাবি করে গ্রাম আদালতে মামলা করলে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই জাল না বসানোর জন্য নোটিশ করি। পরে হেমন্ত আদালতের আশ্রয় নিলে ফাঁড়গুলো কার দখলে রয়েছে তা এখন জানি না।