খাগড়াছড়ির দীঘিনালার বাবুছড়া গুচ্ছগ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মোর্শেদা বেগম (৪০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ সময় তার ছেলে মো. আহাদ (১০) আহত হয়েছে।
শুক্রবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। মোর্শেদা সোনামিয়া টিলার ভূমি রক্ষা কমিটির সভাপতি আবদুল মালেকের স্ত্রী।
পার্বত্য নাগরিক পরিষদ এ হামলার জন্য প্রসীতপন্থি ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও সন্তু লারমা সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (পিজেএসএস) দায়ী করেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করছে তারা।
পুলিশ শনিবার সকালে লাশ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিকেলে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাত দেড়টায় একদল সন্ত্রাসী বাবুছড়া গুচ্ছগ্রামে প্রবেশ করে সোনামিয়া টিলা ভূমিরক্ষা কমিটির সভাপতি মালেকের বাড়িতে গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় তার স্ত্রী মোর্শেদা ও ছেলে আহাদ গুলিবিদ্ধ হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মোর্শেদাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহাদ সেখানে চিকিৎসাধীন। একই সময় গুচ্ছগ্রামের আবুল লিডারের ছেলে রাজু আহাম্মদ ও মো. শাহীনের বাড়িতেও গুলিবর্ষণ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৬৪ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
মালেক বলেন, ঘটনার সময় আমি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়িতে হামলা ও গুলিবর্ষণ করতে থাকে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আমার স্ত্রী মারা যান। আহত হয় ছেলে।
তিনি আরও বলেন, সোনামিয়া টিলা ভূমিরক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনের সন্ত্রাসীরা আমাকে নানাভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
দীঘিনালা থানার ওসি উত্তম চন্দ্র দেব জানান, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা না ঘটে সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করে বের করা হবে বলেও জানান তিনি।