বিভিন্ন অপকর্মের কারণে নিজে দেশ থেকে বিতাড়িত নাইজেরিয়ানরা আশ্রয় নিচ্ছে বাংলাদেশে। এখানে এসে নানা অজুহাতে পাসপোর্ট ফেলে দিয়ে অবৈধভাবে অভিজাত এলাকায় বসবাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে তারা। ফেইসবুকে প্রতারণার ফাঁদ পেতে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। আর তাদের সহায়তা করছে অনেক বাংলাদেশি।
সম্প্রতি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও র্যাব বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত অর্ধশতাধিক নাইজেরিয়ানকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে গত ২১ জুলাই গ্রেপ্তার ১২ নাইজেরিয়ান ও এক বাংলাদেশি নারীর দুদিনের রিমান্ড শেষ হয়েছে গত শুক্রবার। তারা রিমান্ডে অপরাধ স্বীকার করে এবং পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় বলে সিআইডির তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, রাজধানীতে এখনো এ ধরনের বেশ কয়েকটি চক্র সক্রিয়। ঢাকা বসেই তারা এজেন্টের মাধ্যমে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে প্রতারণার ফাঁদ পেতে অর্থ কামাচ্ছে। গ্রেপ্তারে গেলে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা করে। এজন্য এখন গ্রেপ্তার অভিযানে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। নাইজেরিয়ানরা ফেইসবুকে আইডি খুলে বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে, পরে তাদের ফাঁদে ফেলে। ফেইসবুকের মেসেঞ্জারে বিভিন্ন মূল্যবান গিফট পাঠানোর কথা বলে পার্সেল ফি বাবদ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে সিআইডির এডিশনাল ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নাইজেরিয়ানদের বেশিরভাগই অপরাধের দায়ে নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত। এজন্য তারা আশ্রয়স্থল হিসেবে কৌশলে বাংলাদেশে আসছে এবং এখানেও নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার নাইজেরিয়ানদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। রাজধানীতে এখনো নাইজেরিয়া ও কেনিয়ার নাগরিকদের একাধিক চক্র রয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এসব নাইজেরিয়ান বাংলাদেশে বসে ভারত, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এমন তিনটি চক্রের প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা যোগাযোগ করেছে। অতীতের অভিজ্ঞতায় এদের গ্রেপ্তারে বাড়তি ফোর্স ও সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
গত ৬ আগস্ট রাজধানীর কাফরুল ও পল্লবী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার নাইজেরিয়ানসহ সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৪। পরে র্যাব জানায়, ফেইসবুকে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে দামি উপহার পাঠানোর লোভ দেখিয়ে অভিনব পদ্ধতিতে এই চক্রের সদস্যরা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। টুম্পা আক্তার নামে এক বাংলাদেশি তাদের সহায়তা করে।
গত ২১ জুলাই ফেইসবুকে প্রতারণার ফাঁদ পেতে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মিরপুর পল্লবীর একটি বাসা থেকে বাংলাদেশি ভুয়া নারী কাস্টমস কর্মকর্তা ও ১২ নাইজেরিয়ান নাগরিককে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫টি ল্যাপটপ, অসংখ্য সিম ও ১৪টি মুঠোফোন জব্দ করা হয়।