নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক গৃহবধূর নামে মানহানিকর স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার সকালে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অনেকেই স্থানীয় বিভিন্ন সেবাকেন্দ্রে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
আহতরা হলেন আইনউদ্দিন, ফাহিম, হারুন, মসিউর, নাহিদ, আলমাস, ইয়ানুছ, মতিন,শাহিন, ফাহিম, মঞ্জুর, আবেদ আলী, নবী হোসেন, শহিদউল্যাহ, আনার, শরীক, বাবুল, শহিদ উল্যাহ, শাজাহান, দুলাল, লোকমান, দুদু, সজিব, তারা মিয়া, আবুল হোসেন।
এ সময় এক পক্ষ অন্যপক্ষের অন্তত ১০ থেকে ১২টি বসতবাড়ি ও একটি মুদিদোকান ভাংচুর ও লুটাপাট করা হয়েছে।
এ সময় প্রতিপক্ষের টেঁটাবিদ্ধ আবুল হোসেন ও নাঈমকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আচার বিক্রেতা আলমান নামে এক বৃদ্ধাকে রাস্তায় একা পেয়ে লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দিয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। ঘটনার পর থেকে ঘটনাস্থলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের কাকরাইল মোড়া এলাকায় ৫নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য লোকমান ও একই ওয়ার্ডের সম্ভাব্য ইউপি সদস্য প্রার্থী জুলহাসের গ্রুপের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে।
আহত আইনউদ্দিনের ভাতিজা সুমন মিয়া দেশ রূপান্তরকে জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘটনার দুই দিন আগে এক গৃহবধূর নামে রাজন নামে এক যুবক স্টাটাস দেয়।
এরই জের ধরে রোববার সকাল ৯টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় জুলহাসের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লোকমান মেম্বারের লোকজনের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ১০ থেকে ১২টি বসত ঘর ভাংচুর করে।
অপরদিকে জুলহাস মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের লোকজনের বাড়িতে লোকমান মেম্বারের লোকজন দলবল নিয়ে হামলা চালায়। আমাদের কোনো লোক কারোর বাড়িতে হামলা বা ভাংচুর করেনি।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য উত্তেজনা হয়।