বেলারুশে পরিবর্তনের ডাক

বেলারুশে গত ৯ আগস্ট বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকে শুরু হয় বিক্ষোভ। দেশের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের আওয়াজ তুলে রাস্তায় নেমে আসেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীদের দমনে অভিযান পরিচালনা করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার ছাড়াও পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন কয়েকজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও বেগতিক হয়ে দাঁড়ায়। এমন অবস্থায় বিক্ষোভে নাজেহাল হয়ে পড়ে বেলারুশ।

এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে সহায়তা চেয়েছেন। লুকাশেঙ্কো বলেছেন, বেলারুশের জন্য বাহ্যিক সামরিক হুমকি মোকাবিলার ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিসরে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বাহ্যিক সামরিক হুমকি মোকাবিলায় বেলারুশকে নিরাপত্তা সহায়তা দিতে রাশিয়া সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো। দেশটিতে গত কয়েকদিনের টানা রাজনৈতিক সহিংসতার মাঝে প্রতিবেশী পোল্যান্ড এবং লিথুয়ানিয়ায় ন্যাটোর সামরিক মহড়া ঘিরে উদ্বেগ দেখা দেওয়ার পর বেলারুশের প্রেসিডেন্ট এই তথ্য জানিয়েছেন।

গত শনিবারও দেশটির রাজধানীতে সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান কার্যালয়ের সামনে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করছেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টবিরোধী বিক্ষোভ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে সম্পূর্ণ প্রচারের দাবি জানান। গত সপ্তাহের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বলে দাবি করার পর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই নির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপির মাধ্যমে লুকাশেঙ্কোর জয় নিশ্চিত করা হয়েছে বলে বিরোধীরা দাবি করেছেন।

দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন বলেছে, ১৯৯৪ সাল থেকে বেলারুশের ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো এবারের নির্বাচনে ৮০ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে, তার প্রধান বিরোধী সভেতলানা তিখানোভস্কায়া পেয়েছেন ১০ দশমিক ১২ শতাংশ ভোট। তিখানোভস্কায়া বলছেন, ভোট সুষ্ঠুভাবে গণনা করা হলে তিনি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হবেন।

নির্বাচনে মিথ্যাচারে দায়ী বেলারুশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের এই ঘোষণার একদিন পর রাশিয়া উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেলারুশকে সামরিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও বেলারুশের নির্বাচন অবাধ এবং নিরপেক্ষ হয়নি উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে। শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে বাল্টিক তিন রাষ্ট্র লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রীরা বেলারুশের বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংস ব্যবস্থা এবং বিরোধীদের দমনে রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এর আগে, লিথুয়ানিয়া এবং লাটভিয়া জানায়, তারা বেলারুশে হস্তক্ষেপ ও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংস পদক্ষেপ ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। এমনকি তারা দেশটির চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জাতীয় পরিষদ গঠন করবেন। তবে এসবে কাজ না হলে বিকল্প হিসেবে দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করে দেন তারা।

নির্বাচনের পর বেলারুশে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৭০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের অনেকেই বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হাতে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তারা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, মুক্তি পাওয়া দেশটির বিরোধীদলীয় কর্মীরা ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

বিরোধীদলীয় নেতা সভেতলানা তিখানোভস্কায়া আগামী শুক্রবার দেশটিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ-সমাবেশের ডাক দিয়েছেন।