নামছে পানি ধসছে সড়ক

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরেই টাঙ্গাইলের মির্জাপুর-উয়ার্শী-বালিয়া সড়কের রোয়াইল ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রথমে ফাটল ধরে এবং পরে সড়কটি ধসে পড়ে। এতে উপজেলা সদরের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের এবং ঢাকা ও মানিকগঞ্জের সঙ্গে মির্জাপুরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির ফসল মির্জাপুর-উয়ার্শী-বালিয়া আঞ্চলিক সড়কটি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিশ্রুতির ৪৩ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় এমপি একাব্বর হোসেনের প্রচেষ্টায় ২০১৭ সালে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। এর ফলে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হয়। যানজটপ্রবণ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিকল্প সড়ক হিসেবেও এই সড়কটি ব্যবহার হতে থাকে।

সড়কটি উদ্বোধনের নয় মাসের মাথায় নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২০ মার্চ সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করে গিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় গঠিত একটি তদন্ত দল। সেই সময় ওই সংসদীয় তদন্ত কমিটি অনিয়মের সত্যতা পায়।

এ বছর দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় মির্জাপুরের এই সড়কটিসহ সব আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে নিমজ্জিত হয়। পানির প্রবল স্রোতে সড়কের পুষ্টকামুরী, রাজনগর, ঘুগি, রোয়াইল অংশসহ বিভিন্ন অংশে ভাঙন ধরে। বন্যার পানি কমার ফলে সড়কে ভাঙনের ক্ষতচিহ্ন দেখা দেয়। দুর্ভোগ বাড়তে থাকে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষের। সড়কপথে চলতে গিয়ে মানুষ এখন বিকল্প হিসেবে নৌকা ব্যবহার করছে। এতে সময় লাগছে বেশি এবং লাগছে বাড়তি টাকাও।

বৃহস্পতিবার সকালে সড়কটির রোয়াইল বাজার সংলগ্ন একটি ব্রিজের সংযোগ সড়কে ফাটল দেখা দেয় বলে এলাকাবাসী জানায়। পরে দিনের মধ্যে সংযোগ সড়কটি ধসে পানিতে মিশে যায়। ব্রিজের নিচ দিয়ে প্রবাহিত পানির প্রবল স্রোতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ওই ব্রিজটি।

রোয়াইল গ্রামের মিনুর হোসেন বলেন, সকালে ব্রিজের দক্ষিণ পাশের সংযোগ সড়কে ফাটল দেখা যায়। পরে আস্তে আস্তে সড়কটি ধসে পড়ে।

ওই সড়ক দিয়ে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক আশিষ, রুবেল, মজিবর, সনজিত, মুক্তার, সবির বলেনÑ রাস্তাটি ভাঙনের ফলে চলাচলে খুবই কষ্ট হচ্ছে। আমাদের আয়ের পথ এখন বন্ধই হয়ে গেছে।

স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. এনামুল কবির বলেন, সংযোগ সড়কটি ধসে যাওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সড়কটি পরিদর্শনে আসবে বলে তিনি জানান।