উপকূলীয় রায়পুর ইউনিয়ন

পানিতেই জীবিকা, তবুও সংকট সুপেয় পানির!

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের প্রায় ৭০ হাজার মানুষ সুপেয় পানির সমস্যায় ভুগছে। সম্প্রতি জোয়ারের জলোচ্ছ্বাসের পর এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। চারপাশে পানি, এমনকি পানিতেই জীবিকা সেখানকার মানুষের। তবুও তীব্র সংকট সুপেয় পানির। প্রয়োজনের তাগিদে কখনো পুকুরের, আবার কখনো বৃষ্টির পানিতেই দিনাতিপাত করছেন রায়পুরবাসী। লবণাক্ততা ও আয়রণের কারণে সেখানে বিশুদ্ধ পানি নেই বললেই চলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংকট নিরসনে কোনো ধরনের ব্যবস্থাই নিচ্ছে না সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে রায়পুরের দক্ষিণ গহিরা, পূর্ব গহিরা, উত্তর গহিরা, বার আউলিয়া, সরেঙ্গা, পরুয়াপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামবাসীর সুপেয় পানির কষ্টের বিপন্ন রূপ চোখে পড়েছে। দীর্ঘ পথ হেঁটে খাবার পানি সংগ্রহ করছে মানুষ। সকাল-বিকেল-দুপুর পানির আধারগুলো ঘিরে নারী-পুরুষ ও শিশুদের জটলা। কলসি, বালতি, ড্রাম, জগ, যার যা আছে, তা নিয়েই ছুটে যায় পানি সংগ্রহে। এসব পানি পান করে পেটের পীড়া, চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকেই।

স্থানীয় বার আউলিয়া গ্রামের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানি লবণাক্ত হওয়ায় এখানে তেমন কোনো নলকূপ নেই। জোয়ারের জলোচ্ছ্বাসে পুকুরগুলোতে পানি ঢুকে যাওয়ায় এখনো তা নোনা। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু সেই পানি দিয়ে তো আর চলে না।’

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সরকারি হিসাবে রায়পুর ইউনিয়নে এ পর্যন্ত গভীর-অগভীর মিলে ৩৪০টি নলকূপ বসানো হয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি গভীর নলকূপসহ ২৮০টি নলকূপ ব্যবহৃত হচ্ছে আর বিভিন্ন কারণে অকেজো হয়ে পড়েছে ৬০টি। প্রায় ৭০ হাজার জনসংখ্যার উপকূলীয় এই ইউনিয়নে কোনো পানি শোধনাগার নেই। সেখানে গভীর নলকূপ বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।