প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমছে না। প্রতিদিনই কোনো না কোনো দেশে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। বিশ্বে এখন প্রতিদিনের সংক্রমণের হিসাবে শীর্ষে অবস্থান করছে ভারত। গতকাল সোমবার এক দিনেই দেশটিতে ২০ হাজার ৬৫৭ জনের বেশি আক্রান্ত ও ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর সংখ্যার মধ্য দিয়ে ভারতে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৫০ হাজার পার হয়েছে।
সোমবার জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের কভিড-১৯ ড্যাশবোর্ডে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৫০ হাজার ৯২১ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত শনাক্ত মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৩। আক্রান্তের এই সংখ্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পর বিশ্বে তৃতীয় স্থানে আছে ভারত। গত পাঁচ দিনের তুলনায় নতুন সংক্রমণ কিছুটা কমলেও দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল থেকে এগিয়ে ভারত। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, সোমবার সকাল থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৫৭ হাজার ৯৮১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আর মারা গেছে ৯৪১ জন।
ওই একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত হয়েছে ৪২ হাজার ৯৩৬ জন এবং ব্রাজিলে ২৩ হাজার ১০১ জন রোগী।
ভারতে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলেও সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। দেশটিতে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৯ লাখ ১৯ হাজার ৮৪২ জন। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, এখানে মোট আক্রান্তের ৭২ দশমিক ৫১ শতাংশ করোনাভাইরাস মুক্ত হয়েছে।
আক্রান্তের সংখ্যায় ভারত বিশ্বে তৃতীয় স্থানে থাকলেও মৃত্যুর সংখ্যায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে। একসময় মৃত্যুর সংখ্যায় যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন ভারত থেকে এগিয়ে থাকলেও বেশ কিছু দিন হয় ইউরোপের ওই দেশগুলোকে পেছনে ফেলেছে লোকসংখ্যায় বিশে^র দ্বিতীয় বৃহত্তম দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটি।
করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যেই দেশটিতে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ এই ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছে। রয়টার্সের পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃত্যু ১ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে এখন পর্যন্ত সংক্রমণ ও মৃত্যু সবচেয়ে বেশি। সেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লাখ ২৮ হাজার ১৪৫। এর মধ্যে মারা গেছে ১১ হাজার ২৪৪ জন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ জন।