দেয়াল ভাঙা নিয়ে বিক্ষোভ, বন্ধ ঘোষণা বিশ্বভারতী

নিরাপত্তার কারণ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। এ সিদ্ধান্ত দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজ জানায়, সোমবার সকালে টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে বিশ্বভারতীর মেলার মাঠে নির্মীয়মাণ দেয়াল ভেঙে দেয় কয়েক হাজার মানুষ। এমনকি পে লোডার নিয়ে এসেও ভাঙা হয় মাঠে ঢোকার গেট। এ নিয়ে দিনভর তোলপাড় হয় বীরভূমের বোলপুরে।

ওই ঘটনার পর বৈঠকে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল। সেখানেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে কথা হয়। সোমবার যে ঘটনা ঘটল তার পরে আর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ চালানো ঝুঁকির কারণ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করেন সদস্যরা। এ কথা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্বভারতীর তরফে সংবাদ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সোমবার বিশ্বভারতীতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এতে কয়েক লাখ টাকার সম্পদহানি হয়েছে। এ রকম পরিস্থিতিতে আমাদের সহকর্মীদেরও ভয়ংকর পরিণতি হতে পারে। এমন হুমকির মধ্যে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বভারতী বন্ধ থাকবে। তবে ভর্তি ও পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চালু থাকবে। 

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এক টুইটে তিনি লেখেন, আইন শৃঙ্খলার সমস্যা নিয়ে বৈঠকে বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্টর, প্রিন্সিপাল ও বিভাগীয় প্রধানেরা। সেখানেই ঠিক হয়েছে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বিশ্বভারতী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আমি কোনো মন্তব্য করব না। তবে, রাজ্যপাল আমাকে ফোন করার পর আমি খোঁজ নিয়ে যা জেনেছি, ওখানে একটা নির্মাণকাজ চলছিল। সেখানে সেই কাজ চলার সময় কিছু বহিরাগত উপস্থিত ছিলেন। ছাত্ররা তার প্রতিবাদ জানায়। জেলাপ্রশাসককে বলেছি, উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনে পড়ুয়া ও স্থানীয়দের নিয়ে বৈঠক করুন। আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে হবে।”

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা দাবি তোলেন, পৌষ মেলার মাঠে দেয়াল তোলা যাবে না। একাধিক দাবিতে বিকেল থেকেই তারা বিক্ষোভ শুরু করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে।

সোমবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ কয়েকশ’ শিক্ষার্থী উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বাড়ির সামনে ফেস্টুন, ব্যানার নিয়ে হাজির হয়। তারা বলেন, মেলার মাঠে দেয়াল তোলা যাবে না। বিশ্বভারতীকে আমরা কংক্রিটের জঙ্গল হতে দেব না।

তাদের আরও দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য অফিশিয়াল কাজ বন্ধ করা চলবে না। কেন্দ্রের নতুন শিক্ষা পদ্ধতি মানি না।  এতে যারা নতুন ভর্তি হবে তারা সমস্যায় পড়বে। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, উপাচার্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সমস্যার সৃষ্টি করছেন। তার পদত্যাগ চাই।

বিক্ষোভকালে বিশ্বভারতীর নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একদফা ধস্তাধস্তিও হয়। অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন লাইট বন্ধ করে দেয় নিরাপত্তারক্ষীরা। এ নিয়েই তর্কাতর্কির সূত্রপাত। ওই সময় গায়ে হাত দেন নিরাপত্তারক্ষীরা।

এ দিকে দেয়াল ভাঙার ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বীরভূম জেলা পুলিশ। তবে এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।  

পৌষমেলার মাঠে দেয়াল তোলা নিয়ে রবিবার থেকেই উত্তপ্ত শান্তিনিকেতন। এ বছর পৌষমেলা হবে না বলে আগেই জানিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তার পর শনিবার থেকে শুরু হয় দেয়ালের কাজ। মেলার মাঠ ঘেরার প্রতিবাদ করেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ। ‘মেলার মাঠ বাঁচাও, শান্তিনিকেতন বাঁচাও’ নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় পেজ তৈরি করে গত কয়েক দিন ধরেই শুরু হয়েছিল প্রতিবাদ।