অন্তঃসত্ত্বা ২ গাভীকে বিষ দিয়ে হত্যা: থামছে না কমলার কান্না

সন্তানের মতোই লালন-পালন করা গাভী দুটি হারানোর শোক পাঁচ দিনেও কাটিয়ে উঠতে পারেননি সীতাকুন্ডের কমলা বেগম। আপনজন হারানোর মতোই থেমে থেমে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি।

পড়বেন নাইবা কেন। গাভী দুটি যে তার সন্তানের মতোই ছিল। গত পাঁচ বছর ধরে গাভী দুটি তার নিত্যসঙ্গী ছিল। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গরুর যত্নেই সময় পার করতেন তিনি। দুটি গাভীই অন্তঃসত্ত্বা ছিল, দুটিরই চলতি মাসের শেষ দিকে বাচ্চা প্রসবের তারিখ ছিল।

এর আগে গত বছর গাভী দুটি ঘর থেকে রাতে চুরি হয়ে যায়। তখনও কমলা বেগম পাগলের মতো খুঁজতে থাকেন।  ১০ দিন পর খোঁজ পেয়ে পার্শ্ববর্তী মিরসরাই উপজেলার মিঠাছরা বাজার থেকে গরুগুলো উদ্ধার করেছিলেন তিনি।

কমলা বেগমের মেয়ে নাহিদ ফারজানা জানান, গরুদের অযত্ন হবে দেখে গত কয়েক বছর কোথাও বেড়াতেও যাননি তার মা।

তিনি বলেন, আমার মা আমাদের মতই গাভী দুটিকে ভালোবাসতেন। প্রতি মুহূর্তে এদের চোখে চোখে রাখতেন তিনি। কেউ দূর থেকে কলা বা অন্য কোনো খাদ্যের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে গাভীগুলোকে খেতে দিয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন।

বিলাপ করতে করতে কমলা বেগম বলেন, কারও সঙ্গে শত্রুতা থাকলে প্রয়োজনে আমার ক্ষতি করত কিন্তু আমার গাভী কার কি ক্ষতি করল। আমার গাভীগুলোকে কেন বিষ দিল।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার বিষক্রিয়ায় সীতাকুন্ড পৌরসভাধীন নুনাছড়া গ্রামের জহুরুল আলমের বাড়ির কমলা বেগমের গাভী দুটি মারা যায়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে একটা মারা যাওয়ার দুই মিনিট পর অপরটি মারা যায়। গাভী দুটির আনুমানিক মূল্য ছিল তিন লাখ টাকা।