রত্নাকে চাপা দেওয়া গাড়ির চালক গ্রেপ্তার

পর্বতারোহী রেশমা নাহার রত্নাকে চাপা দেওয়া সেই মাইক্রোবাসচালক মো. নাঈমকে গ্রেপ্তার করেছে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ইব্রাহীমপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় জব্দ করা হয় মাইক্রোবাসটিও। শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সী জানিয়েছেন, নাঈম দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করেছে।

ওসি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাইক্রোবাসটির চালক নাঈমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, দুর্ঘটনার সময় সেই গাড়ি চালাচ্ছিল। সে পর্বতারোহী রতরত্নাকে চাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেছে, এটা একটা দুর্ঘটনা। তাৎক্ষণিকভাবে সে বুঝতে পারেনি। পরে মাইক্রোবাসটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দেখে বুঝেছে দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল কি না জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে জেনেছি তার ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে। সে পেশাদার চালক।’ রেশমার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মোবারক হোসেন বলেন, নাঈমকে আটকের পর প্রথমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গত ৭ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সংসদ ভবন এলাকার চন্দ্রিমা উদ্যানসংলগ্ন লেক রোডে সাইক্লিং করার সময় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন রত্নাকে। উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রেশমা পর্বতারোহী, দৌড়বিদ এবং সাইক্লিস্ট ছিলেন। তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করতেন। ২০১৯ সালের ২৪ আগস্ট ভারতের লাদাখে অবস্থিত স্টক কাঙরি পর্বত এবং ৩০ আগস্ট কাং ইয়াতসে-২ পর্বতে সফলভাবে আরোহণ করেন রেশমা। দুটি পর্বতই ছয় হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের পাহাড় কেওক্রাডংয়ের চূড়া স্পর্শ করার মাধ্যমে শুরু হয় তার অভিযান। ওই বছরই মৌলিক প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশিতে অবস্থিত পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টিনিয়ারিংয়ে যান তিনি। কিন্তু অ্যাডভান্স বেজক্যাম্পে যাওয়ার পর তার পায়ে ফ্র্যাকচার হয়।