চীনের বন্যা পরিস্থিতির এখন পর্যন্ত কোনো উন্নতি হয়নি। ইয়াংসি নদীর উজানে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেওয়ায় কর্র্তৃপক্ষ ওই অববাহিকা অঞ্চলের এক লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে। বন্যায় দেশটির সিচুয়ান প্রদেশে ১২০০ বছরের পুরনো বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী একটি স্থাপনাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
বিবিসির প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বিশালাকার বুদ্ধ ভাস্কর্যের পা ছুঁয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বন্যার তীব্র স্রোত। গত আশি বছরের মধ্যে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। কর্মী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা বালুর ব্যাগ ব্যবহার করে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা সিচুয়ানের লেশান শহরের নিকটবর্তী ২৩৩ ফুট উঁচু পাথরের বুদ্ধ মূর্তিটিকে রক্ষার চেষ্টা করছে।
বন্যার কর্দমাক্ত পানি এরই মধ্যে বুদ্ধ মূর্তিটির পায়ের আঙুল ছাড়িয়ে গেছে। ১৯৪৯ সালের পর এবারই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল বলে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওই অঞ্চল থেকে ইতিমধ্যেই এক লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। লেশান শহরের অর্থনৈতিক ভিত্তি পর্যটন, যা মূলত ওই বুদ্ধ ভাস্কর্যটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। বন্যায় আটকে যাওয়া ১৮০ জন পর্যটককে উদ্ধারকারীরা উদ্ধার করেছে।
এদিকে নতুন করে প্রবল বৃষ্টিপাতের পর মঙ্গলবার সিচুয়ানের বন্যা সতর্কতার মাত্রাও সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করা হয়েছে। ইয়াংসি নদী এই প্রদেশটির ভিতর দিয়েই ভাটির দিকে এগিয়ে গেছে। একই দিন রাতে ইয়াংসি নদীর দেখভালকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ইয়াংসি ওয়াটার রিসোর্চ কমিশন ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। নদীর কোনো কোনো পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৫ মিটার ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে। চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ‘থ্রি গর্জেস’ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বুধবার পানির প্রবাহ বেড়ে প্রতি সেকেন্ডে ৭৪ হাজার ঘনমিটার হতে পারে বলে জানিয়েছে। এ থ্রি গর্জেস প্রকল্পটির নকশা করার সময় ইয়াংসির বন্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির জলাধারে পানি আটকে রাখার সুবিধা থাকলেও এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সেখানে সতর্কতা মাত্রার চেয়েও অনেক বেশি পানি জমা রাখা হয়েছিল। বাধ্য হয়েই মঙ্গলবার জলাধার থেকে বেশি পানি ছাড়তে হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।