কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক চিকিৎসককে দিয়ে জরুরি বিভাগের দায়িত্ব পালন করিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অনেকে আশঙ্কা করছেন, ওই চিকিৎসকের মাধ্যমে অনেক রোগী ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন।
নমুনা পরীক্ষার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে (প্রেসক্রিপশন) নমুনা দেওয়া ও আইসোলেশনে যাওয়ার বিষয়টি অবগত করানো হলেও কর্তৃপক্ষ তাতে কর্ণপাত করেনি। আক্রান্ত ওই চিকিৎসককে দিয়ে দুই দিন দায়িত্ব পালন করানো হয়।
আক্রান্ত ওই চিকিৎসক জানান, গত ৪ আগস্ট থেকে তিনি নিজের শরীরে করোনা আক্রান্তের লক্ষণ পাচ্ছিলেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল তিনি কোনো কিছুর স্বাদ ও গন্ধ পাচ্ছিলেন না। বিষয়টি তিনি হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. মইনুদ্দিনকে জানান। ওই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হাসপাতালের ৫ টাকার টিকিটে তাকে নমুনা পরীক্ষা ও আইসোলেশনে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। ৫ আগষ্ট তিনি নমুনা পরীক্ষার জন্য দেন।
কিন্তু গত ৪ আগস্ট হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয় ৫ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত একটি ডিউটি রোস্টার তৈরি করে। এতে স্বাক্ষর করেন হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম ও আবাসিক চিকিৎসক রেদওয়ান ফেরদৌস। এই রোস্টারটি হাসপাতালে টানানো হয়।
অন্যদিকে, ওই আক্রান্ত চিকিৎসক করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়ার পর তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হোম আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দিলেও আবাসিক চিকিৎসক রেদওয়ান ফেরদৌস তাকে ডিউটি থেকে বিরত রাখতে অস্বীকৃতি জানান।
আক্রান্ত চিকিৎসক অন্য কাউকে দিয়ে বদলি ডিউটিতে রাজি করাতে না পেরে বাধ্য হয়ে করোনা আক্রান্ত অবস্থায় গত ৬ আগস্ট দুপুর আড়াইটা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ডিউটি করেন। এরপর ১১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টা থেকে পরদিন ১২ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগে ডিউটি করেন। এরমধ্যে ১৩ আগস্ট তার নমুনা পরীক্ষায় ফলাফল করোনা পজিটিভ আসে।
ওই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা হলে তিনি স্বীকার করেন, এই দুদিনে কমপক্ষে শতাধিক রোগীকে জরুরি বিভাগে তিনি চিকিৎসা দিয়েছেন। বর্তমানে ওই চিকিৎসক, মাতৃত্বকালীন ছুটিরত তার চিকিৎসক স্ত্রী এবং তাদের শিশু সন্তান করোনায় আক্রান্ত।
কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রেদওয়ান ফেরদৌস বলেন, একটা ডিউটি রোস্টার তৈরি হয়ে গেলে সেটা পরিবর্তন করা সম্ভব না। নিজের পরিবর্তে অন্য একজন চিকিৎসককে ম্যানেজ করে ডিউটি করাতে পারলেন না-এ ব্যর্থতা ওই ডাক্তারের।
হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটা ভুল হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এরকম আর হবে না। আবাসিক চিকিৎসককে ওয়ার্ন করে দিচ্ছি।
কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, আক্রান্ত ডাক্তার রোগী দেখে থাকলে অবশ্যই রোগীদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম বলেন, কেউ কভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিলে তাকে আইসোলেশনে যাওয়ার নিয়ম। এ ব্যাপারে সভায় কথা হবে।