সামুদ্রিক জোয়ারের পানিতে ফের প্লাবিত হয়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন রায়পুরের বিস্তীর্ণ এলাকা।
জোয়ারে ভেসে গেছে পুকুর ও ঘেরের মাছ। অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানির তোড়ে এসব এলাকার বিভিন্ন সড়ক ভেঙে গেছে। ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের খোলা বেড়িবাঁধ দিয়ে বঙ্গোপসাগরের পানি সরাসরি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে উপকূলীয় এই ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তত এক হাজার পরিবার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ফলে এসব পরিবারের প্রায় ৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রায়পুর ইউনিয়নের দুইটি ওয়ার্ডে গত কয়েক দিন ধরে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বাড়িঘর লোনা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ঘরের চুলায় আগুন জ্বলছে না। নলকূপও পানির নিচে ডুবে রয়েছে। ক্ষুধার্ত মানুষ ও পরিবারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। রাস্তাঘাট পানির নিচে থাকায় এসব এলাকার যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। পানিবন্দি মানুষ সাঁতরে বা নৌকা নিয়ে চলাচল করছে। প্রচণ্ড লবণাক্ততার কারণে ওই দুই ওয়ার্ডসহ এ ইউনিয়নের বিপুল অংশে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এমন কোনো পুকুর নেই যাতে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়েনি। এছাড়া পয়নিষ্কাশন ও দৈনন্দিন গৃহস্থালী কাজেও চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমির হোসেন বলেন, এই ইউনিয়নের বার আউলিয়া, দক্ষিণ গহিরা, পূর্ব গহিরা ও মালিপাড়া এলাকা জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এসব এলাকার সড়কের ওপরে প্রায় ৪-৫ ফুট পানি হয়েছে। জোয়ার-ভাটার নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে ইউনিয়নের কয়েক গ্রাম। দিনে দুইবার পুরো লোকালয় জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কষ্টের সীমা নেই শিশু, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের।
রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জানে আলম বলেন, জোয়ারের পানি বৃদ্ধির কারণে বেশ কিছু কাঁচা-আধাপাকা ঘরবাড়ি ও সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাস্তাঘাটে চলাচল করা যাচ্ছে না। এখানকার হাজার হাজার মানুষ জোয়ারে পানিবন্দি রয়েছে।