রাশিয়া নিজেদের তৈরি করা করোনার টিকা উৎপাদনের জন্য ভারতের সঙ্গে কাজ করতে চাইছে। টিকাটি আবিষ্কারের জন্য অর্থদাতা প্রতিষ্ঠান ‘ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কিরিল দিমিত্রিয়েভ গত বৃহস্পতিবার এমন আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে জানিয়েছে পিটিআই।
কিরিল দিমিত্রিয়েভ জানান ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া ও কিউবার বিপুল পরিমাণ টিকার ডোজ উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে। করোনাভাইরাসের নিরাপদ টিকা উদ্ভাবনে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে গত ১১ আগস্ট বিশ্বের প্রথম টিকা হিসেবে ‘স্পুটনিক ভি’ অনুমোদনের ঘোষণা দেয় রাশিয়া। তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার আগেই এর ছাড়পত্র দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন জানান, এই টিকা ইতিমধ্যে তার মেয়ের শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে। নিয়ম মেনে ট্রায়াল সম্পূর্ণ না করেই টিকা প্রয়োগের ছাড়পত্র দেওয়ায় এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করে বিভিন্ন দেশ। তবে মস্কোর দাবি, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে কিরিল দিমিত্রিয়েভ বলেন, ‘লাতিন আমেরিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ টিকাটি উৎপাদনের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ভারতের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে। টিকাটি উৎপাদনের ইস্যুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে আমরা ভারতের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে চাচ্ছি। আমাদের বিশ্বাস, গ্যামেলিয়ার তৈরি এ টিকাটি উৎপাদনের সক্ষমতা তাদের রয়েছে। এ কথাটা বলা জরুরি যে, অংশীদারত্বের ভিত্তিতে টিকাটি উৎপাদন করা হলে আমরা এর চাহিদা মেটাতে পারব।’
করোনা টিকার প্রথম ধাপের উৎপাদন ইতিমধ্যে শুরু করেছে রাশিয়া। এ মাসের শেষেই প্রথম ধাপের উৎপাদন শেষ হবে বলে আশা করছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ পর্যায়ে তৈরি হবে মোট ১০০ কোটি ডোজ। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে করোনাভাইরাসের স্পুটনিক ভি তৈরি করছে গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এর নামকরণ করা হয়েছে সোভিয়েত জমানার প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুটনিক-১-এর নামে।