ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালে (স্ন্যাপব্যাক) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ দেশের মধ্যে ১৩টি দেশই আপত্তি জানিয়েছে।
দেশগুলো মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র দুই বছর আগে পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় এই চুক্তির আওতায় ইরানের বিরুদ্ধে ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া চালুর অধিকার নেই ট্রাম্প প্রশাসনের।
রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন প্রশাসন থেকে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালে ৩০ দিনের সময় নির্ধারণ করার পর তাদের দীর্ঘদিনের মিত্রদেশ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং বেলজিয়াম চিঠি লিখে নিজেদের বিরোধিতার কথা জানিয়ে দেয়।
তাদের পাশাপাশি চীন, রাশিয়া, ভিয়েতনাম, নাইজার, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনেইডান্স, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, এস্তোনিয়া এবং তিউনিসিয়া চিঠি দিয়েছে।
পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ছয় শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স, চীন ও জার্মানির ঐতিহাসিক জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
ওবামা প্রশাসনের সময়কার এ চুক্তি থেকে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয় ট্রাম্প প্রশাসন।
ফলে এ চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য তাদের বর্তমান প্রচেষ্টা এবং ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনরায় চালুর দাবি পুরোপুরি অবান্তর বলে মনে করছে দেশগুলো।
এর আগে ইরানের ওপর আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়াতে নিরাপত্তা পরিষদে তোলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দানে বিরত ছিল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ১১টি দেশ। গত শুক্রবারের এ ভোটাভুটিতে শুধু ডমিনিকান রিপাবলিকের ভোট পায় দেশটি।
ইরান ও প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যে হওয়া ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অধীনে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আগামী অক্টোবরে শেষ হচ্ছে।