ভোলায় অতি জোয়ারে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত

ভোলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে মেঘনার অতি জোয়ারে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ৫ হাজার মানুষ।

পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ফসল ও মৎস্য ঘেরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল।

ভোলা জেলা প্রশাসক মাসুদ অলম সিদ্দীকি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। পানিবন্দী মানুষের মাঝে তা বিতরণ করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল, টানা বর্ষণ আর অতি জোয়ারের কারণে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপদসীমার ১০৯ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এতে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা পয়েন্টে শহর রক্ষা বাঁধের ২০ মিটার ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়। বাঁধ মেরামতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কয়েক দফা চেষ্টা করলেও পানি চাপে বাঁধ মেরামত সম্ভব হচ্ছে না। 

জোয়ারের পানিতে ভোলার সদর, দৌলতখান, বোরহান উদ্দিন, লালমোহন, তজুমদ্দিন, চরফ্যাশন ও মনপুরা এ সাত উপজেলায় ফসলের বাপক ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, পানিতে আমনের বীজতলা ৯৮০ হেক্টর, রোপা আমন ৩ হাজার ৭৪০ হেক্টর, আউশ ২ হাজার দুইশ হেক্টর ও ৭৮০ হেক্টর জমির সবজি নিমজ্জিত হয়েছে। ডুবে গেছে অনেক পানের বরজ। কষ্টের ফসল হারিয়ে এখন দিশেহারা কৃষকেরা। অনেকের গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পানিতে ভেসে গেছে। হাজার হাজার পরিবার এখন পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগে দিন যাপন করছে।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাঁধ মেরামত করছে। বাঁধ মেরামত হলে সংকটের সমাধান হবে।